জামায়াতের বিচারপথে এ কোন অশুভ ছায়া?

মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের লক্ষ্যে চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল হওয়ার সম্ভাবনা উঁকি দিয়েই যেন মিলিয়ে যেতে বসেছে। গত ১৪ মে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দল বা প্রসিকিউশনের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, এ মাসের শেষ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হতে পারে। জাতির জন্য এটি একটি সুসংবাদই ছিল বটে। কিন্তু ওই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সপ্তাহ না পেরুতেই একটি দুঃসংবাদ জাতিকে হতাশায় ডুবিয়ে দিতে বসেছে। রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশনের যে আইনজীবীদলটি জামায়াতের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ তৈরির কাজ করছিল, তারা সেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রসিকিউশনেরই একাংশের হস্তক্ষেপে। এ নিয়ে এখন চলছে দুই পক্ষের বাদানুবাদ। এ দ্বন্দ্বের ডামাডোলে আড়ালে থেকে যেতে পারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেটি হলো- জামায়াতের বিচারে আইনের ফাঁক। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ সংশোধন করে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনের বিচারের বিধান যুক্ত করা হলেও অপরাধী সংগঠনের শাস্তি কী হবে, তা আইনে উল্লেখ নেই। Continue reading

Leave a comment

Filed under Bangladesh, Trial of crimes against huminity

পথহারা এরশাদের কথায় পথের দিশা

Ershadজাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, নির্বাচনের প্রশ্নে তিনি পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁকে সবাই বেইমান বলবে। আর নির্বাচনে অংশ না নিলে দেশের ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত। আজ শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় যুব সংহতির কাউন্সিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এরশাদ বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি দিশেহারা। কী হবে, এই ভেবে তিনি ‘বিনিদ্র রজনী’ কাটাচ্ছেন। এরশাদ বলেন, ‘ক্ষমতা হস্তান্তর হয় তিনভাবে। নির্বাচন, সশস্ত্র সংগ্রাম ও মিলিটারি ক্যুর মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুকে সেনাসদস্যরা হত্যা করেছিল, মোশতাককে সেনাসদস্যরা উত্খাত করেছিল। সাত্তারকে সরিয়ে আমি এসেছিলাম। এরপর আর কোনো ক্যু হয়নি। ক্ষমতায় যেতে হবে ভোটের মাধ্যমে। এখন মহাজোটে আছি। মহাজোটে থেকে নির্বাচন করলে লোকে বেইমান বলবে। বেইমান হয়ে আমি মরতে চাই না। আবার নির্বাচনে অংশ না নিলে কী হবে, আমরা জানি না। উভয় সংকট।’
নির্বাচনের প্রশ্নে এরশাদ পথ হারিয়ে ফেলার কথা বললেও তার ওই বক্তব‌্যের মধ্যেই পথের দিশা দেখিয়েছেন তিনি। তার কথা থেকে স্পষ্ট যে ‘দেশদরদী’ এরশাদ নির্বাচনে অংশ নেবেন, কারণ তা না হলে যে ‘দেশের ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত’!

Leave a comment

Filed under Bangladesh, Politics

গণহত্যাকারীদের নিয়ে কেন এ মায়াকান্না?

একাত্তরে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত আটটি মামলার রায় হয়েছে। এ বিচারের লক্ষ্যে গঠিত দুটি ট্রাইব্যুনাল পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন কারদণ্ড, একজনকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড এবং আরেকজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। এদের মধ্যে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার সাজা যাবজ্জীবন থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক নেতা আবদুল আলীমের মৃত্যুদণ্ড না হলেও দুটি মামলার রায়েই ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, তাদের অপরাধও মৃত্যুদণ্ডযোগ্য। তবে আসামিদের বয়স ও স্বাস্থ্য বিবেচনায় তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। Continue reading

Leave a comment

Filed under Trial of crimes against huminity

স্কাইপ কেলেঙ্কারির তদন্ত না হওয়ায় নতুন কেলেঙ্কারি

বছর খানেক আগে ‘স্কাইপ কেলেঙ্কারি’ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘিরে। এক নম্বর ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে প্রবাসী আইন বিশেষজ্ঞের কথোপকথন গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর দাবি উঠেছিল, ওই কথোপকথন ফাঁস হওয়ার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা অনুসন্ধান করা হোক। কিন্তু এ নিয়ে তদন্তের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। সরকারি মহল থেকে ধরেই নেওয়া হয়েছিল, ওই কথোপকথন ফাঁস হয় দেশের বাইরে থেকে। যদিও তখন বিচারপতি নিজামুল হকের কম্পিউটারও হ্যাক করা হয়েছিল। হ্যাক করা ইমেইলসহ বিভিন্ন তথ্য তখন ফাঁস করা হয় ট্রাইব্যুনাল লিকস নামের একটি ব্লগে, যেটিতে এবারও ফাঁস করা হলো সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার রায়ের খসড়া। এ থেকে ধারণা করা যায়, দুটি ঘটনাই একই মহল ঘটিয়েছে। কাজেই আগের ঘটনাটির বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিলে এবারের ঘটনা সংঘটিত করা কঠিন হতো। Continue reading

Leave a comment

Filed under Bangladesh, Corruption, Trial of crimes against huminity

সত্যকে মিথ্যা প্রমাণ করার নিষ্ফল চেষ্টা সাকার

S Q injuredমুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দেশে ছিলেন না- এ কথা প্রমাণ করার হাজারো চেষ্টা করেছেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা চৌধুরী)। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে সাকার সেই কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সাকা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। সেখানে তাঁর উপস্থিতির বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। Continue reading

Leave a comment

Filed under Bangladesh liberation war, Crimes against huminity, War crimes

কাদের মোল্লার ফাঁসি ও মওদুদের মামাবাড়ির আবদার

quader-mollah-mowdudএকাত্তরে কসাই কাদের নামে পরিচিত জামায়াত নেতা ও আলবদর আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির আদেশ কার্যকর না করার দাবি জানিয়েছে জামায়াতের প্রধান শরিক বিএনপির আইনজীবী সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। আজ বুধবার ফোরামের উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে মওদুদ বলেন, ‘সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা করার জন্য নাগরিদের রিভিউ করার অধিকার নিশ্চিত করা আছে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সরকারের পক্ষ থেকে আব্দুল কাদের মোল্লাকে তার রিভিউ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবিধানে রিভিউ করার যে বিধান রয়েছে সেটাই দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এই আইনকে আমরা কার্যকর দেখতে চাই।’ Continue reading

Leave a comment

Filed under Crimes against huminity, Politics

বেঁচে থাকলে খুশি হতেন বদি-রুমিদের মায়েরা

Jahanara Imam-Rawshanara১৯৭১ সালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে বেশি ছিল রাজধানী ঢাকায়। নগরীতে সেনাবাহিনীর সার্বক্ষণিক টহল তো ছিলই, তার ওপর নগরবাসীর কাছে আরেক আতঙ্ক ছিল অবাঙালি বিহারিরা। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ভাষায়, ‘প্রায় প্রায়ই গুজবের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে- মোহাম্মদপুর-মিরপুর থেকে বিহারিরা দলে দলে বেরিয়ে পড়ে এদিকপানে আসবে। একটা তাৎক্ষণিক হৈচৈ পড়ে যায় চারপাশে।’ পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনী, বিহারি আর স্থানীয় রাজাকার-আলবদরদের হাতে পুরোপুরি নজরবন্দি অবস্থায় ছিল ঢাকায় থেকে যাওয়া বাঙালিরা। এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ- রাত নামলেই ব্ল্যাকআউট, কারফিউ আর বাড়ির দরজায় আতঙ্কজনক কড়ানাড়া, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি। এমন এক অবরুদ্ধ, অন্ধকার, আতঙ্কের নগরীতে একরাশ আলোর ঝলকানি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন একদল মুক্তিপাগল মেধাবী তরুণ বাঙালি। তাঁদের দলের নাম ছিল ক্র্যাক প্লাটুন। অনেকেই বলত ‘বিচ্ছু বাহিনী’। বদি, রুমী, জুয়েল, স্বপন, কামাল, আজাদ, আলম, আলতাফ মাহমুদ… একঝাঁক উজ্জ্বল তারকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল সেই বিচ্ছু দল। তাঁদের কেউ নামকরা ছাত্র, কেউ সুরকার, কেউ খেলোয়াড়। Continue reading

Leave a comment

Filed under Bangladesh liberation war, Crimes against huminity, History