যুক্তরাষ্ট্রে ১৮২ কোটি টাকায় লবিস্ট নিয়োগ মীর কাসেমের

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এবং এর নেতারা। রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে না পেরে তারা যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছে। লবিস্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ২৫ মিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত একটি বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে চুক্তির অর্থও পাঠিয়েছেন জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী।

মীর কাসেম আলী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংককে না জানিয়ে কনসালটেন্সি বাবদ ২৫ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়ে থাকলে সেটা মানি লন্ডারিং অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে লবিস্ট নিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে ২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেন জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী। ২০১০ সালের ১০ মে ছয় মাসের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কনসালটেন্সি ফার্ম কেসিডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে এই চুক্তি করেন। চুক্তিপত্রের একটি কপি কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২৫ মিলিয়ন ডলার অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়েছে মীর কাসেম আলীকে। সিটি ব্যাংক এনএ-এর মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক ট্রান্সফার পদ্ধতিতে চুক্তির অর্থ কেসেডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের হিসাব নম্বরে (৩০৭১৭২৪৮, সুইফ্ট কোড : সিটি ইউএস ৩৩) পাঠানো হয়েছে।
কেসিডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেসম্যান মার্টি রুশো। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা হচ্ছে ৭০০ থার্টিনথ স্ট্রিট, এনডব্লিউ, সুইট-৪০০, ওয়াশিংটন ডিসি। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ ও লবিং করাসহ মীর কাসেম আলীর উদ্দেশ্য সফল করাই এই চুক্তির ল্য বলে চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ১০ মে চুক্তিটি সই হয়। এতে সই করেন মীর কাসেম আলী এবং কেসিডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের পে জেনারেল কাউন্সেল অ্যান্ড্র– জে. ক্যামেরস।
মীর কাসেম আলীর উদ্দেশ্য সফল করতে ২০১০ সালের ৬ অক্টোবর থেকে গত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছয় মাস যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লবিং করার জন্য এ চুক্তি করা হয়। প্রয়োজনে আরো ২৫ মিলিয়ন ডলার (১৮২ কোটি টাকা) দিয়ে চুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো যাবে বলে চুক্তিপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়াও চুক্তির বাইরে মামলা খরচসহ অন্যান্য খরচের ব্যয় বহন করতে আরো অর্থ দেওয়ার কথা কেসিডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসকে।
গত বছরের ৬ অক্টোবর মীর কাসেম আলীকে লেখা এক চিঠিতে কেসিডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম বিষয়ক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আমোস জে. হোকস্টাইন উল্লেখ করেন, তার (কাসেম) স্বার্থ রার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে মীর কাসেম আলীর বক্তব্য জানতে গতকাল বুধবার তার মালিকানাধীন দিগন্ত টেলিশিনের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী মোতাকাব্বেরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়। মোতাকাব্বের জানান, এ বিষয়ে মীর কাসেম আলীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে। কাসেম আলীর মোবাইল ফোন নম্বর চাইলে মোতাকাব্বের তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট মতায় আসার পর একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ল্েয গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নিয়োগ দেওয়া হয় তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন। তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেেিত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আলবদর বাহিনীর গুরুত্বপূণূ দায়িত্বে ছিলেন মীর কাসেম। তার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

Advertisements

Leave a comment

Filed under War crimes

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s