ঘাতক-সহযোগী দল ও নেতৃস্থানীয় দালালরা

বাঙালি নির্মূল ‘অভিযানে পাকিস্তানিদের সাফল্য ছিল সামান্যই। কারণ পাকিস্তানি সৈন্যরা সন্দেহভাজন বাঙালিদের চেহারা যেমন চিনত না, তেমনি পড়তে পারত না বাংলায় লেখা অলি-গলির নম্বরও। এজন্য তাদের নির্ভর করতে হতো স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতার ওপর। সামগ্রিকভাবে বাঙালিরা তখনও ছিল মুজিবের ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদী। পাকিস্তানিদের প্রতি তারা ছিল নিস্পৃহ। এ সময় যারা এগিয়ে আসেন তারা হলেন কাউন্সিল মুসলিম লীগের খাজা খয়ের উদ্দিন, কনভেনশন মুসলিম লীগের ফজলুল কাদের চৌধুরী, কাইয়ুম মুসলিম লীগের খান এ সবুর খান, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম আযম ও নেজামী ইসলাম পার্টির মৌলভী ফরিদ আহমদের মতো মুষ্টিমেয় কিছু ডানপন্থি।’ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের তখনকার জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিক তার উইটনেস টু সারেন্ডার বইয়ে এসব কথা লিখেছেন।
(These operations were only a partial success because the West Pakistani troops neither knew the faces of the suspects nor could they read the lane numbers (in Bengali). They had to depend on the cooperation of the local people. The Bengalis, by and large, still cherished the hope of Mujib’s return and assumed an attitude of passive indifference. The only people who came forward were ‘the rightists like Khwaza Khairuddin of the Council Muslim League, Fazlul Qader Chaudhry of the Convention Muslim League, Khan Sobur A Khan of the Qayyum Muslim League, Professor Ghulam Azam of the Jamaat-e-Islami and Maulvi Farid Ahmed of the Nizam-i-Islam Party.)
একাত্তরের ২৩ জুলাই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসনের ওপর সেনাবাহিনীর আস্থার ঘাটতি থাকায় তাদের মাথার ওপর ছড়ি ঘোরানোর মতা দিয়ে গঠন করা হয় শান্তি কমিটি। অবাঙালি বিহারি এবং মুসলিম লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর মতো কিছু রণশীল ধর্মভিত্তিক ছোট রাজনৈতিক দলের লোকজনকে নিয়ে এ কমিটি গঠন করে সেনাবাহিনী।
কুখ্যাত এ কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি ছিল মূলত জামায়াতে ইসলামীর। একাত্তরের ৬ এপ্রিল তারা এ প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই দিন জামায়াত নেতা গোলাম আযম আলাদাভাবে পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক ও গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করে প্রস্তাবটি দেন। এর পরদিনই জামায়াতের পত্রিকা দৈনিক সংগ্রাম-এ সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ‘বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদের সমন্বয়ে শান্তি কমিটি গঠন এেেত্র (জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করা) খুবই সহায়ক হতে পারে। এ ধরনের শান্তি কমিটি দুষ্কৃতিকারীদের হাত থেকে শান্তিকামী নাগরিকদের জানমাল রা করতে পারবে।’ ওই সময় পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দালালরা মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতকারী বলতো।
একাত্তরে ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ১০ দিনের মধ্যে ৪ এপ্রিল পিডিপির নূরুল আমিন, জামায়াতে ইসলামীর গোলাম আযম, কাউন্সিল মুসলিম লীগের খাজা খয়ের উদ্দিনসহ ১২ জন ডানপন্থি রাজনীতিক টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর কয়েক দিন পরই তারা গঠন করেন শান্তি কমিটি। প্রথমে ৯ এপ্রিল ঢাকায় খাজা খয়ের উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ১৪০ সদস্যের নাগরিক শান্তি কমিটি (Citizen Peace Committee) গঠন করা হয় মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, পিডিপি ও নেজামে ইসলাম পার্টির নেতাদের নিয়ে। পরে ১৪ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সভায় এ কমিটির নতুন নাম দেওয়া হয় পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি (Central Peace Committee for East Pakistan)। ওইদিন ২১ সদস্যের একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়, যাতে ছিলেন কাউন্সিল মুসলিম লীগের সৈয়দ খাজা খয়ের উদ্দিন (আহ্বায়ক), এ কিউ এম শফিকুল ইসলাম, জামায়াতের গোলাম আযম, গোলাম সরওয়ার, পিডিপির মাহমুদ আলী, আবদুল জব্বার খদ্দর, কনভেনশন মুসলিম লীগের আবদুল মতিন, নেজামে ইসলাম পার্টির মওলানা সিদ্দিক আহমদসহ আগে উল্লিখিত ডানপন্থি দলগুলোর নেতারা। পরদিন ১৬ এপ্রিল এ খবর ছাপা হয় পাকিস্তান অবজারভার ও দৈনিক সংগ্রামসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। জামায়াত প্রধান গোলাম আযম অন্য দালালদের নিয়ে ১৬ এপ্রিল আবার টিক্কা খানের সঙ্গে সাাৎ করে সেনাবাহিনীকে সহায়তা দিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্র“তি দেন। পরদিন ১৭ এপ্রিল সে খবর ছাপা হয় দৈনিক সংগ্রাম, পাকিস্তান অবজারভারসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। নিজের আÍজীবনীমূলক বই ‘জীবনে যা দেখলাম’-এর তৃতীয় খণ্ডে গোলাম আযম লিখেছেন, জামায়াত একাত্তরে সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে সাাৎ করে সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল।
হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করতে ওই সব দলের নেতারা শান্তি কমিটির পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তান শান্তি ও কল্যাণ কাউন্সিল নামেও একটি সংগঠন দাঁড় করান। এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা হলেনÑ মৌলভী ফরিদ আহমদ (পিডিপি), নুরুজ্জামান, মাওলানা আবদুল মান্নœান, জুলমত আলী খান (পিডিপি), এ কে এম মজিবুল হক (মুসলিম লীগ) ও ফিরোজ আহমেদ। পরে জেলা ও মহকুমা পর্যায়েও গঠন করা হয় কমিটি। এসব কমিটিকে স্থানীয় সামরিক কর্তৃপরে কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে তথ্য সরবরাহের জন্য বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মুসলিম লীগ নেতা ইব্রাহিম হোসেনের লেখা ‘ফেলে আসা দিনগুলো’ বই থেকে জানা যায়, একাত্তরের ২৮ মার্চ টিক্কা খান ডেকে পাঠান সবুর খানকে। মুসলিম লীগের তিন গ্র“পসহ অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। কাইয়ুম মুসলিম লীগের প থেকে সবুর খানের সঙ্গে ছিলেন ইব্রাহিম হোসেন, মফিজুদ্দীন আহমেদ, হেকিম ইরতেজাউর রহমান ও আফজাল হোসেন। টিক্কা খান তাদের দেখেই নাকি বলেছিলেন, ‘আপনারাই তো পাকিস্তানের দুর্গতির জন্য দায়ী। মুসলিম লীগ পাকিস্তান বানিয়েছিল আর সেই মুসলিম লীগ এখন তিন ভাগে বিভক্ত। এখনও যদি নিজেদের মধ্যে দলাদলি আর মারামারি বন্ধ না করেন তাহলে পাকিস্তান টিকবে?’
১৯৭১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক পাকিস্তান-এ প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যায়, পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের তখনকার আমির গোলাম আযম বলেন, পাকিস্তান টিকিয়ে রাখতেই জামায়াতে ইসলামী শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। একই দিনে দৈনিক সংগ্রাম-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী দলীয় দুই মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা শহর জামায়াত আয়োজিত অনুষ্ঠানে গোলাম আযম বলেন, ‘জামায়াতের কর্মীরা জীবন বিপন্ন করে পাকিস্তানের অস্তিত্ব ও অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য কাজ করেছে। দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শান্তি কমিটির মাধ্যমে ও অন্যান্য উপায়ে জনসাধারণের মনে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করার জন্য কাজ করেছে এবং একই উদ্দেশ্যে জামায়াত দলের দুজন সিনিয়র নেতাকে মন্ত্রিত্ব গ্রহণে বাধ্য করেছে।’
ইরানী বংশোদ্ভূত গবেষক সৈয়দ ওয়ালি রেজা নাসের তাঁর The Vanguard of The Islamic Revolution:The Jama’at-i Islami of Pakistan বইয়ে লিখেছেন, সরকারের অনুপ্রেরণায় ইসলামী জমিয়তে তুলাবা (IJT) অর্থাৎ ইসলামী ছাত্রসংঘ হয়ে ওঠে জামায়াতে ইসলামীর মূল শক্তি। আর্মির সহায়তায় এরা আলবদর ও আলশামস নামে দুটি প্যারামিলিটারি ইউনিট গঠন করে বাঙালি গেরিলাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য।
একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের এক গোপন রিপোর্টে  [নম্বর ৬০৯ (১৬৯) পল/এস (আই)] উল্লেখ আছে, ঢাকায় ৩ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর এক সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্রোহী ও সমাজবিরোধী আখ্যা দিয়ে তাদের নির্মূল করার তাগিদ দেওয়া হয়। নিরীহ মানুষের ওপর জামায়াত কর্মীদের নৃশংসতায় বিরক্ত ছিল অন্য দালালরাও। পূর্ব পাকিস্তান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইয়াহিয়া সরকারের কাছে পাঠানো গোপন প্রতিবেদনে [স্মারক নং 686(172)-Poll./S(1)] এর উল্লেখ আছে।
জামায়াত সারাদেশে রাজাকার-আলবদর বাহিনী গঠন করে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছে এবং নিজেরাও অংশ নিয়েছে হত্যা, লুট, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগে। জামায়াত নেতা ও আল-বদর কমান্ডার এ বি এম খালেক মজুমদারের শিকল পরা দিনগুলো বইয়ে এর উল্লেখ আছে।
একাত্তরে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্য ছিলেন মৌলভীবাজারের মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামী ছাত্রসংঘ সদস্যদের আল-বদর বাহিনীতে যোগদান ছিল বাধ্যতামূলক। সে কথা জানিয়ে এক চিঠিতে তাকেও ওই বাহিনীতে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। ইসলামী ছাত্র সংঘ মৌলভীবাজার শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মতলিবের লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রসংঘের সকল নেতাকর্মীকে আলবদর বাহিনীতে যোগদানের জন্য সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ই আগস্ট আপনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মৌলভীবাজার কমান্ডের অফিসে সকাল ১০টার মধ্যে মেজর ফখরুল ইসলামের সাথে সাাৎ করিয়া যোগদানপত্র গ্রহণ করিবেন।’ ১ আগস্ট ১৯৭১ তারিখে লেখা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘যাহারা বদর বাহিনীতে যোগ দিবেন না তাহারা ছাত্র সংঘের কর্মী হিসাবে বিবেচিত হইবেন না।’
ইসলামী ছাত্রসংঘই যে আল-বদর বাহিনী গঠন করেছিল তার আরেকটি প্রমাণ কিশোরগঞ্জের আল-বদর কমান্ডার ও তখনকার ইসলামী ছাত্রসংঘ নেতা কে এম আমিনুল হকের বই ‘আমি আলবদর বলছি’। বইটির ৩০-৩১ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, ‘আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে এলাম। এখানে সংগঠনের অন্যতম নেতা মুহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম ভাইয়ের সাথে সাাৎ হলে তিনি সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করে আমার উন্নত ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে দিলেন।… অষ্টগ্রামের সাবিয়ানগর থেকে কুলিয়ার চর হয়ে কিশোরগঞ্জে এসে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করলাম। তারপর আমাদের সমমনা বিশেষ করে ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে আমি আলবদর বাহিনী গঠন করলাম।’
এছাড়া ‘গফরগাঁয়ে আল-বদর বাহিনী গঠিত’ শিরোনামে ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তারিখে দৈনিক পাকিস্তান-এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গফরগাঁওয়ে আল-বদর বাহিনী গঠন উপলে এক সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ছাত্রসংঘের নেতা মহীউদ্দীন ও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রসংঘের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুজিবর রহমান।
মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে তার ম্যাসাকার গ্রন্থে লিখেছেন, ‘ধর্মান্ধ ছাত্রদের নিয়ে গোপনে তৈরি হলো আলবদর বাহিনী। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক ও ছাত্রদের গোপনে হত্যার চক্রান্ত করে। শুধু গোপন চক্রান্তই নয়, আলবদররা এই সব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল লোকচুর আড়ালে। একই উদ্দেশ্য নিয়ে সে সময় আরো একটি সংগঠন তৈরি করা হয়। এর নাম ছিল আলশামস।’ বইটিতে আরো বলা হয়েছে, ‘জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনের ধর্মান্ধ মানুষগুলোকে নিয়ে ধর্মরার নামে উদ্বুদ্ধ করে পাকিস্তানি কর্তৃপ গোপনে গঠন করেছিল এ দল। এদের অনুগত সহযোগিতায় আরো হত্যায় বিষাদকিষ্ট হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত নেতারাই যে রাজাকার বাহিনীর সংগঠক ছিল তার আরো প্রমাণ আছে জামায়াতেরই মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম-এর পাতায়। একাত্তরের ১৭ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন করেন গোলাম আযম। ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তারিখে প্রকাশিত দৈনিক সংগ্রাম-এর খবরে বলা হয়, প্রশিণার্থী রাজাকারদের প্রতি ‘ভালভাবে ট্রেনিং গ্রহণ করে যত শীঘ্র সম্ভব এসব আভ্যন্তরীণ শত্র“কে (মুক্তিযোদ্ধা) দমন করার জন্য গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার আহ্বান’ জানান তিনি। ওই রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শনে গোলাম আযমের সঙ্গে ছিলেন প্রাদেশিক জামায়াতের শ্রম ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শফিকুল্লাহ, কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সহ-সভাপতি ও তেজগাঁও থানা জামায়াতের সভাপতি মাহবুবুর রহমান গোরহা এবং রাজাকার বাহিনী প্রধান মোহাম্মদ ইউনুস। একাত্তরের ৬ আগস্ট পত্রিকাটিতে ‘রংপুর জেলায় ৬ হাজারেরও বেশি রেজাকার ট্রেনিং নিচ্ছে’ শীর্ষক সংবাদে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলার সেক্রেটারী মওলানা কাজী নজমুল হুদা রেজাকার বাহিনীর সংগঠক।’ এতে আরো বরা হয়, ‘রংপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব মুখলেসুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব জবানউদ্দিন আহমদ ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল রুহুল ইসলামও তাদের উপর ন্যস্ত বিভিন্ন থানা এলাকা সফর করে রেজাকার বাহিনী গঠন করছেন এবং বিভিন্ন ট্রেনিং কেন্দ্র তদারক করছেন।’ দৈনিক পাকিস্তান-এর খবর অনুযায়ী জামায়াত নেতা এ কে এম ইউসুফ ১১ অক্টেবর খুলনা জেলা স্কুল মিলনায়তনে রাজাকার সমাবেশে রাজাকারদের প্রশংসা করেন এবং ১২ নভেম্বর সাতীরায় রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
মতার ভাগ-বাটোয়ারা এবং রাজাকার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কিছু বিরোধ দেখা গেলেও পিডিপি প্রধান নূরুল আমীনও একাত্তরের ৬ নভেম্বর  ইয়াহিয়ার সঙ্গে সাাৎ করে রাজাকারদের সংখ্যা বাড়ানো এবং তাদের আরো অস্ত্র দেওয়ার সুপারিশ করেন। পাকিস্তান অবজারভার ও দৈনিক পাকিস্তান-এ ৭ নভেম্বর ১৯৭১ তারিখে এ খবর ছাপা হয়।
কনভেনশন মুসলিম লীগের প্রধান ফজলুল কাদের চৌধুরীর চট্টগ্রাম শহরের বাসা ‘গুডস হিল’ ছিল স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল এবং প্রধান টর্চার সেল। ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখের দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, মরহুম ড. সানাউল্লাহর ছেলেসহ কয়েকশ ছেলেকে ওই বাড়িতে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এছাড়া একাত্তরের ১৭ জুলাই ছাত্রনেতা ফারুককে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়। তিন মুসলিম লীগকে এক করার মিশন নিয়ে একাত্তরের ১২ জুলাই পশ্চিম পাকিস্তান সফরে যান ফজলুল কাদের চৌধুরী। ওই সময় বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের অবস্থা বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।’ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের দালালরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছিল।
একাত্তরে পাকহানাদার বাহিনীর গণহত্যা ও নৃশংসতার নিন্দায় অনেক মুসলিম দেশের নেতারাও যখন সোচ্চার তখন সারা পাকিস্তান জামায়াতের আমীর সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। ৬ জুন এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মুসলমানরা কখনোই পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায়নি।
সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের যেসব জনপ্রতিনিধি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের দুষ্কৃতকারী আখ্যা দিয়ে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া একাত্তরের ২৮ জুন এক ভাষণে পার্লামেন্টে তাদের সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করেন। পরদিন ইয়াহিয়ার ওই ভাষণকে স্বাগত জানিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন পাকিস্তান জামায়াতের আমীর মওদুদী, পিডিপি প্রধান নূরুল আমীন, কাইয়ুম মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এ সবুর খান প্রমুখ দালালরা। একইভাবে পরে ১ জুলাই বিবৃতি দেন কনভেনশন লীগের ফজলুল কাদের চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক পার্টির এ এস এম সোলায়মান, চট্টগ্রামের মাহমুদুন্নবী চৌধুরী, বদরুল আলম প্রমুখ।
পাকিস্তান জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মিয়া তোফায়েল ১৩ জুলাই রংপুর সফরকালে মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতকারী আখ্যা দিয়ে তাদের খতম করার আহ্বান জানান। এর আগে ৭ জুলাই পাকিস্তান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল চৌধুরী রহমতে এলাহীও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। কাউন্সিল মুসলিম লীগের নেতা দৌলতানা ১৫ জুন দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন ‘দেশের অখণ্ডতা বজায় রাখার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে দুষ্কৃতকারী দমনের’ জন্য।

মালেক মন্ত্রিসভার সদস্যরা
আবুল কাশেম (কাউন্সিল মুসলিম লীগ)– অর্থমন্ত্রী
নওয়াজেশ আহমদ (কাউন্সিল মুসলিম লীগ)Ñ খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী
এ এস এম সোলায়মান (কৃষক শ্রমিক পার্টি)– শ্রম ও সমাজকল্যাণমনত্রী
ওবায়দুল্লাহ মজুমদার (আওয়ামী লীগের দলত্যাগী)Ñ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আব্বাস আলী খান (জামায়াতে ইসলামী)Ñ শিামন্ত্রী
মওলানা এ কে এম ইউসুফ (জামায়াতে ইসলামী)Ñ রাজস্ব, পূর্ত ও সেচমন্ত্রী
মওলানা মোহাম্মদ ইসহাক (নেজামে ইসলাম)Ñ মৌলিক গণতন্ত্র ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমন্ত্রী
শামসুল হক (আওয়ামী লীগ ত্যাগী)Ñ সাহায্য ও পুনর্বাসন দপ্তর
জসিমুদ্দিন আহমদ (পিডিপি)Ñ আইন ও পার্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী
আখতারুদ্দিন আহমদ (কনভেনশন মুসলিম লীগ)Ñ রাজস্ব দপ্তর
অংশু প্র“ চৌধুরীÑ সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তর
এ কে মোশাররফ হোসেন (পিডিপি)Ñ বিদ্যুৎ ও সেচ দপ্তর
মুজিবুর রহমান (কাইয়ুম মুসলিম লীগ)Ñ তথ্যমন্ত্রী

ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে সাাৎ করা তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি দল
হামিদুল হক চৌধুরী– পাকিস্তান অবজারভার-এর মালিক
মাহমুদ আলীÑ ভাইস প্রেসিডেন্ট, পিডিপি
ড. সাজ্জাদ হোসায়েন
বিচারপতি নূরুল ইসলাম
ড. কাজী দীন মুহম্মদ
টিক্কা খান গঠিত প্রাদেশিক শিা সংস্কার কমিটি
ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন
ড. হাসান জামান
ড. মোহর আলী
এ কে এম আবদুল রহমান
আবদুল বারী
ড.সাইফুদ্দিন জোয়ার্দ্দার
ড. মকবুল হোসেন
জাতিসংঘে পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের বাঙালি সদস্যরা
শাহ আজিজুর রহমান (মুসলিম লীগ)
জুলমত আলী খান (পিডিপি)
রাজিয়া ফয়েজ (মুসলিম লীগ)
ড. ফাতিমা সাদিক
অ্যাডভোকেট এটি সাদী
বহির্বিশ্বে বাংলাদেশবিরোধী দায়িত্বপালনকারী
মৌলভী ফরিদ আহমদ (সহসভাপতি, পিডিপি)Ñ বিশেষ দূত, সৌদি আরব ও মিশর
তবারক হোসেনÑ উচ্চ পর্যায়ের সরকারিদলের সদস্য হয়ে চীন সফর
বিচারপতি নূরুল ইসলামÑ বিশেষ দূত, জেনেভা
ড. সাজ্জাদ হোসায়েনÑ বিশেষ দূত, মধ্যাচ্য ও বিভিন্ন মুসলিম দেশ
মুজিবর রহমান (কাইয়ুম মুসলিম লীগ)Ñ সদস্য, নিউইয়র্ক প্রতিনিধিদল

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের (মোট আসন ৩১০) পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭টি এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সবাই ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশ সরকারে যোগ দেন। ফলে পাকিস্তানের সামরিক সরকার জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের ৭৮টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ১৭১টি আসন শূন্য ঘোষণা করে। এছাড়া মৃত্যুর কারণে আরো কয়েকটি আসন শূন্য হয়। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে টিক্কা খানকে সরিয়ে ডা. এ এম মালেককে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয় বেসামরিক শাসনের লেবাস দেওয়ার জন্য। ৩ সেপ্টেম্বর শপথ নেন মালেক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সবুর খান, ফজলুল কাদের চৌধুরী, মোনেম খান। এরপর জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের ‘শূন্য’ আসনগুলোতে উপনির্বাচনের আদেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে। সিদ্দিক সালিক তার বইয়ে লিখেছেন, হামলার পর থেকে সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে যেসব ডানপন্থি রাজনীতিক সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করছিলেন, তাদের পুরস্কার দিতে চান ফরমান। আসন ছিল কম, কিন্তু প্রত্যাশী অনেক। ওই অবস্থায় তিনি ডানপন্থি সবাইকে মিলে একটি একক তালিকা করে দিতে বলেন। কিন্তু দলগুলো যার যার মতো নিলাম হাঁকে। জাতীয় পরিষদে পিডিপি ৪৬, জামায়াতে ইসলামী ৪৪, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ২৬, কনভেনশন মুসলিম লীগ ২১ এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ১৭টি আসন চেয়ে বসে। শেষে নিজ উদ্যোগে আসন ভাগ করে দেন ফরমান। যদিও নির্বাচন সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই স্থগিত করা হয়। একাত্তরের ২৯, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম-এ প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, জাতীয় পরিষদে ৫২টি আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে জামায়াতের ১৩, পিডিপির ১১, পিপিপির ৫, কনভেনশন মুসলিম লীগের ৭, নেযামে ইসলামের ৬ কাউন্সিল লীগের ৫ ও কাইয়ুম লীগের ৫ জন ছিলেন। এরা হলেনÑ
১. আব্বাস আলী খান (বগুড়া-১)– জামায়াত
২. মসিউল ইসলাম (বগুড়া-২)Ñ পিডিপি
৩. জবানউদ্দীন আহমদ (রংপুর-১১)– জামায়াত
৪. এম এ মতিন (পাবনা-৩)Ñ কনভেনশন লীগ
৫. অ্যাডভোকেট সা’দ আহমদ (কুষ্টিয়া-২)Ñ জামায়াত
৬. অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন (কুষ্টিয়া-৩)Ñ জামায়াত
৭. আজমত আলী (কুষ্টিয়া-৪)Ñ কাউন্সিল লীগ
৮. সাইয়েদ আজীজুল হক নান্না মিয়া (বাকেরগঞ্জ-১)Ñ পিডিপি
৯. শাহ মতিউর রহমান (বাকেরগঞ্জ-৬)Ñ নেযামে ইসলাম
১০. মুজীবুর রহমান (মোমেনশাহী-১৬)Ñ কাইয়ুম লীগ
১১. মওলানা সাইয়েদ মসলেহউদ্দীন (মোমেনশাহী-১৭)Ñ পিডিপি
১২. অধ্যাপক ইউসুফ আলী (ঢাকা-৫)Ñ জামায়াত
১৩. মুহাম্মদ শহীদউল্লাহ (ঢাকা-১০)Ñ কনভেনশন লীগ
১৪. ফজলুল হক (সিলেট-৩)Ñ পিডিপি
১৫. সাইয়েদ কামরুল আহসান (সিলেট-২)Ñ নেযামে ইসলাম
১৬. মওলানা আশরাফ আলী (কুমিল্লা-১)Ñ নেযামে ইসলাম
১৭. দলিলুর রহমান (কুমিল্লা-১৩)Ñ পিডিপি
১৮. মৌলবী আবদুল হক (কুমিল্লা-১৪)Ñ নেযামে ইসলাম
১৯. মুহাম্মদ নূরুল্লাহ (চট্টগ্রাম-১)Ñ পিডিপি
২০. অধ্যাপক গোলাম আযম (টাঙ্গাইল-১)Ñ জামায়াত
২১. মওলানা এ কে এম ইউসুফ (খুলনা-২)Ñ জামায়াত
২২. আবদুস সবুর খান (খুলনা-৪)Ñ কাইয়ুম লীগ
২৩. আলীমুজ্জামান চৌধুরী (ফরিদপুর-৬)Ñ পিডিপি
২৪. আবদুল ওয়াহাব (যশোর-৩)Ñ কাইয়ুম লীগ
২৫. খাজা মুহাম্মদ শাহ (যশোর-৪)Ñ নেযামে ইসলাম
২৬. আকরাম হোসাইন খান (ঢাকা-৪)Ñ পিপিপি
২৭. সাঈদুর রহমান (রংপুর-১০)Ñ কাইয়ুম লীগ
২৮. সাইয়েদ কামাল হোসেন (রংপুর-২)Ñ পিপিপি
২৯. মওলানা তমিজউদ্দীন (দিনাজপুর-২)Ñ জামায়াত
৩০. আফিলউদ্দীন (কুষ্টিয়া-১)Ñ কাইয়ুম লীগ
৩১. খাজা খয়েরউদ্দীন (ঢাকা-১৪)Ñ কাউন্সিল লীগ
৩২. আবদুল্লাহ আল-কাফি (দিনাজপুর-৩)Ñ জামায়াত
৩৩. কামরুজ্জামান  (দিনাজপুর-৫)Ñ পিপিপি
৩৪. এম রশিদ (যশোর-১)Ñ পিডিপি
৩৫. সাইয়েদ শামসুর রহমান (যশোর-২)Ñ কাউন্সিল লীগ
৩৬. রইসুদ্দীন আহমদ (রংপুর-৯)Ñ পিপিপি
৩৭. শামসুদ্দীন আহমদ (বাকেরগঞ্জ-৩)Ñ পিপিপি
৩৮. মৌলবী আবদুর রব (বাকেরগঞ্জ-৫)Ñ কনভেনশন লীগ
৩৯. মুহাম্মদ এস এম ইউসুফ (মোমেনশাহী-৩)Ñ জামায়াত
৪০. মনজুরুল হক (মোমেনশাহী-১৩)Ñ নেযামে ইসলাম
৪১. আবদুল হান্নান (টাঙ্গাইল-৩)Ñ কনভেনশন লীগ
৪২. অধ্যাপক আবদুল খালেক (টাঙ্গাইল-৫)Ñ জামায়াত
৪৩. মাহমুদ আলী (সিলেট-৮)Ñ পিডিপি
৪৪. আবদুল জব্বার খদ্দর (নোয়াখালী-২)Ñ পিডিপি
৪৫. সাইদুল হক অ্যাডভোকেট (নোয়াখালী-৩)Ñ কাউন্সিল লীগ
৪৬. শফিকুল্লাহ (নোয়াখালী-৬)Ñ জামায়াত
৪৭. আবু সুফিয়ান (নোয়াখালী-৭)Ñ কনভেনশন লীগ
৪৮. এ কিউ এম শফিকুল ইসলাম (কুমিল্লা-২)Ñ কাউন্সিল লীগ
৪৯. নাছিরউদ্দিন চৌধুরী (সিলেট-১)Ñ পিডিপি
৫০. আলহাজ হাবীবুর রহমান চৌধুরী (সিলেট-৪)Ñ কনভেনশন লীগ
৫১. আফাজুদ্দিন অ্যাডভোকেট (রাজশাহী-৬)Ñ জামায়াত
৫২. আবদুর রহমান বাকাউল (ফরিদপুর-৪)Ñ কনভেনশন লীগ
এরপর আরো যাদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় :
৫৩. আসগার হোসেন জায়েদী (পাবনা-৫)Ñ কনভেনশন লীগ
৫৪. মওলানা আবদুস সুবহান (পাবনা-৬)Ñ জামায়াত
৫৫. জসিমুদ্দিন আহমেদ (রাজশাহী-৩)Ñ কাইয়ুম লীগ
৫৬. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ (রাজশাহী-৪)Ñ পিডিপি
৫৭. আবদুস সাত্তার খান চৌধুরী (রাজশাহী-৭)Ñ কনভেনশন লীগ
৫৮. শাহ মতিউর রহমান (বাকেরগঞ্জ-৬)Ñ জামায়াত
৫৯. মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহিম (বাকেরগঞ্জ-৯)Ñ জামায়াত
(অসমাপ্ত)

প্রাদেশিক পরিষদের তথাকথিত উপনির্বাচনে দালাল ছয়টি দলের
সম্মত প্রার্থী তালিকা (দৈনিক সংগ্রাম ২৮, ২৯, ৩০ অক্টোবর)
১। মোশাররফ হোসেন ওরফে লাবু মিয়া (রংপুর-১)– কাউন্সিল লীগ
২। হাজী আফতাব হোসেন (রংপুর-৩)– জামায়াত
৩। সগিরুদ্দিন হাশমী (রংপুর-৪)Ñ পিডিপি
৪। মোহাম্মদ আবদুল মান্নান খান (রংপুর-৫)– পিডিপি
৫। জসিমুদ্দিন আহমদ (রংপুর-৬)Ñ কাউন্সিল লীগ
৬। প্রিন্সিপাল সদরুল ইসলাম (রংপুর-৭)Ñ জামায়াত
৭। সায়েরুদ্দিন খোন্দকার (রংপুর-৮)Ñ পিডিপি
৮। মোহাম্মদ আকমল হোসেন (রংপুর-১১)Ñ কনভেনশন লীগ
৯। আহমেদ আলী সরকার (রংপুর-১২)Ñ কাউন্সিল
১০। শামসুল হক (রংপুর-১৩)Ñ জামায়াত
১১। আলহাজ পনিরুদ্দিন আহমদ (রংপুর-১৪)Ñ কনভেশন
১২। আবুল কাশেম (রংপুর-১৫)Ñ কাউন্সিল
১৩। মাহবুবুর রহমান (রংপুর-১৮)Ñ কাইয়ুম লীগ
১৪। তালেবুদ্দিন মণ্ডল (রংপুর-১৯)Ñ জামায়াত
১৫। আইয়ুবল হক (দিনাজপুর-১)Ñ কাউন্সিল
১৬। ডা. শফিউর রহমান (দিনাজপুর-২)Ñ জামায়াত
১৭। ডা. এম ইসমাইল (দিনাজপুর-৩)Ñ জামায়াত
১৮। মো. আবদুল রাশিদ মিয়া (দিনাজপুর-৫)Ñ জামায়াত
১৯। রেজাউল ইসলাম (দিনাজপুর-৬)Ñ পিডিপি
২০। কামরুজ্জামান (দিনাজপুর-৮)Ñ কনভেনশন
২১। নূরুল হুদা চৌধুরী (দিনাজপুর-৯)Ñ কনভেনশন
২২। আবদুল আলীম (বগুড়া-১)Ñ কনভেনশন
২৩। তাসিরুদ্দীন সরকার (বগুড়া-২)Ñ জামায়াত
২৪। মুরাদুজ্জামান (বগুড়া-৪)Ñ কাইয়ুম লীগ
২৫। ডা. এ গনি (বগুড়া-৫)Ñ কাউন্সিল
২৬। এ কে এম ইবরাহিম (বগুড়া-৭)Ñ নেজামে ইসলাম
২৭। এস এম আজিজুল হক (বগুড়া-৯)Ñ পিডিপি
২৮। ডা. ইরতাজ আলম (রাজশাহী-১)Ñ পিডিপি
২৯। ওবায়দুল্লাহ (রাজশাহী-২)Ñ জামায়াত
৩০। তৈয়ব আলী অ্যাডভোকেট (রাজশাহী-৩)Ñ জামায়াত
৩১। আবদুস সালাম চৌধুরী (রাজশাহী-৭)Ñ জামায়াত
৩২। ফরাজউদ্দিন (রাজশাহী-৮)Ñ নেজামে ইসলাম
৩৩। ফজলুর রহমান (রাজশাহী-৯)Ñ কাউন্সিল
৩৪। জেড এ এম ইউসুফ খান (রাজশাহী-১০)Ñ কাইয়ুম লীগ
৩৫। আবদুস সোবহান (রাজশাহী-১১)Ñ পিডিপি
৩৬। এম এ এম ফারুক (রাজশাহী-১২)Ñ কাইয়ুম লীগ
৩৭। আইনুদ্দিন (রাজশাহী-১৩)Ñ কনভেনশন
৩৮। কাচুদ্দিন (রাজশাহী-১৫)Ñ জামায়াত
৩৯। আবদুল ওয়াহাব (রাজশাহী-১৬)Ñ নেজামে ইসলাম
৪০। সৈয়দ আসাদুল্লাহ সিরাজী (পাবনা-১)Ñ  কনভেনশন
৪১। গোলাম আলম (পাবনা-২)Ñ  কাইয়ুম লীগ
৪২। মমতাজুদ্দিন সরকার (পাবনা-৪)Ñ কাইয়ুম লীগ
৪৩। প্রিন্সিপাল আবদুল মজিদ (পাবনা-৭)Ñ পিডিপি
৪৪। ডা. মোফাজ্জল আলী (পাবনা-৮)Ñ কাউন্সিল
৪৫। মওলানা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া (পাবনা-১০)Ñ কনভেনশন
৪৬। খোদাবক্স খান (পাবনা-১১)Ñ জামায়াত
৪৭। মওলানা মোহাম্মদ ইসহাক (পাবনা-১২)Ñ নেজামে ইসলাম
৪৮। নূরুল আলম (কুষ্টিয়া-১)Ñ জামায়াত
৪৯। মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী (কুষ্টিয়া-২)Ñ কাইয়ুম লীগ
৫০। আবদুল কাইয়ুম (কুষ্টিয়া-৪)Ñ জামায়াত
৫১। খালেকুজ্জামান (কুষ্টিয়া-৫)Ñ কাউন্সিল
৫২। মফিজুল্লাহ চৌধুরী (কুষ্টিয়া-৬)Ñ জামায়াত
৫৩। নওয়াজেস আহমদ (কুষ্টিয়া-৭)Ñ কাউন্সিল
৫৪। মওলানা নূরুন্নবী সামদানী (যশোর-১)Ñ জামায়াত
৫৫। আবু নসর মোহাম্মদ আনসার উদ্দিন (যশোর-২)Ñ জামায়াত
৫৬। মোজাম্মেল হক (যশোর-৩)Ñ জামায়াত
৫৭। তবিবুর রহমান (যশোর-৫)Ñ কাউন্সিল
৫৮। আবদুর রশিদ (যশোর-৬)Ñ কাইয়ুম
৫৯। এম এম মকবুল আহমদ (যশোর-৭)Ñ পিডিপি
৬০। মশিউল আযম (যশোর-৮)Ñ জামায়াত
৬১। হারেসুদ্দিন আহমদ (যশোর-৯)Ñ কাইয়ুম
৬২। রুস্তম আলী (যশোর-১০)Ñ পিডিপি
৬৩। কাজী এ লতীফ (যশোর-১২)Ñ কনভেনশন
৬৪। সাইয়েদ মোহাম্মদ আলী (যশোর-১৩)Ñ কাউন্সিল
৬৫। এ এফ এম এ জলিল (খুলনা-১)Ñ পিডিপি
৬৬। মারোয়ারজান চৌধুরী (খুলনা-২)Ñ কাইয়ুম
৬৭। হাফেজ আবদুল করীম (খুলনা-৫)Ñ নেজামে ইসলাম
৬৮। হামিদুর রহমান গোলদার (খুলনা-৮)Ñ কাইয়ুম
৬৯। আনসার আলী (খুলনা-১৪)Ñ জামায়াত
৭০। ডা. শরফুদ্দীন (পটুয়াখালী-৫)Ñ কনভেনশন
৭১। লুৎফুর রহমান (পটুয়াখালী-৬)Ñ কাইয়ুম
৭২। হাফেজ আবদুর রহমান (পটুয়াখালী-৭)Ñ নেজামে ইসলাম
৭৩। আখতার উদ্দিন আহমদ (বাকেরগঞ্জ-৭)Ñ কনভেনশন
৭৪। আবদুল আজিজ তালুকদার (বাকেরগঞ্জ-৮)Ñ পিডিপি
৭৫। মওলানা আবদুল মতিন (বাকেরগঞ্জ-৯)Ñ নেজামে ইসলাম
৭৬। এ কে ফজলুল হক চৌধুরী (বাকেরগঞ্জ-১০)Ñ পিডিপি
৭৭। আবদুল জলিল খান (বাকেরগঞ্জ-১৩)Ñকাইয়ুম
৭৮। মওলানা ফজলুর রহমান (বাকেরগঞ্জ-১৫)Ñ জামায়াত
৭৯। সরদার সুলতান মাহমুদ (বাকেরগঞ্জ-১৮)Ñ কনভেনশন
৮০। ফজলুর রহমান তালুকদার (টাঙ্গাইল-১)Ñ কাইয়ুম
৮১। মজিবর রহমান (টাঙ্গাইল-২)Ñ জামায়াত
৮২। মির্জা আমজাদ হোসেন (টাঙ্গাইল-৩)Ñ কাইয়ুম
৮৩। শহীদুল্লাহ খান ইউসুফ (টাঙ্গাইল-৪)Ñ জামায়াত
৮৪। হাকিম হাবিবুর রহমান (টাঙ্গাইল-৫)Ñ কনভেনশন
৮৫। হাফিজুদ্দিন আহমদ (টাঙ্গাইল-৭)Ñ পিডিপি
৮৬। আবদুল হাই সালাফী (টাঙ্গাইল-৮)Ñ নেজামে ইসলাম
৮৭। ডা. রফিউদ্দিন (মোমেনশাহী-১)Ñ কাউন্সিল
৮৮। খোন্দকার নূরুজ্জামান (মোমেনশাহী-২)Ñ পিডিপি
৮৯। অধ্যাপক আবদুল গনি (মোমেনশাহী-৩)Ñ নেজামে ইসলাম
৯০। ডা. সামেদুল হক (মোমেনশাহী-৬)Ñ কনভেনশন
৯১। হাজী আবদুর রহমান (মোমেনশাহী-৮)Ñ জামায়াত
৯২। হাসমত আলী (মোমেনশাহী-৯)Ñ কাউন্সিল
৯৩। জুলমাত আলী খান (মোমেনশাহী-১০)Ñ পিডিপি
৯৪। এ এফ এম নাজমুল হুদা (মোমেনশাহী-১১)Ñ পিডিপি
৯৫। মওলানা আবদুল জব্বার (মোমেনশাহী-১৪)Ñ জামায়াত
৯৬। কাসেম আলী (মোমেনশাহী-১৫)Ñ পিডিপি
৯৭। মোহাম্মদ হাতেম আলী (মোমেনশাহী-১৭)Ñ পিডিপি
৯৮। রুহুল আমীন খান (মোমেনশাহী-১৮)Ñ নেজামে ইসলাম
৯৯। অধ্যাপক আলাউদ্দিন আজাদ (মোমেনশাহী-২০)Ñ কাইয়ুম
১০০। আলী ওসমান (মোমেনশাহী-২১)Ñ নেজামে ইসলাম
১০১। হেদায়েতুল্লাহ (মোমেনশাহী-২৫)Ñ জামায়াত
১০২। আবদুল আলী (মিনু মিয়া) (মোমেনশাহী-২৬)Ñ কনভেনশন
১০৩। আবু সাঈদ ওয়াহেদ খান (মোমেনশাহী-২৯)Ñ পিডিপি
১০৪। আবদুল কাদির (ঢাকা-৫)Ñ কাইয়ুম
১০৫। সাইদুর রহমান (ঢাকা-৬)Ñ কাউন্সিল
১০৬। আবদুল কাইয়ুম (ঢাকা-৭)Ñ কাইয়ুম
১০৭। নূরুল ইসলাম চৌধুরী (ঢাকা-১০)Ñ পিডিপি
১০৮। ফজলুল বারী (ঢাকা-১১)Ñ কাউন্সিল
১০৯। মোহাম্মদ সিরাজুদ্দি (ঢাকা-১২)Ñ কাউন্সিল
১১০। আবদুল খালেক (ঢাকা-১৩)Ñজামায়াত
১১১। ডা. এইচ এম ওসমান আলী (ঢাকা-১৪)Ñ পিডিপি
১১২। মাহবুবুর রহমান গোরহা (ঢাকা-১৫)Ñ জামায়াত
১১৩। আজগর হোসেন (ঢাকা-১৭)Ñকাইয়ুম
১১৪। আলহাজ মোহাম্মদ আকিল (ঢাকা-১৮)Ñ নেজামে ইসলাম
১১৫। ওবায়দুল কবীর (ঢাকা-২১)Ñপিডিপি
১১৬। সুলতান উদ্দিন খান (ঢাকা-২২)Ñ কাইয়ুম
১১৭। আবদুল হামিদ (ঢাকা-২৪)Ñ নেজামে ইসলাম
১১৮। অধ্যাপক খলিলুল্লাহ (ঢাকা-২৫)Ñ জামায়াত
১১৯। এম এ জাফর (ঢাকা-২৮)Ñ কনভেনশন
১২০। মনসুর আলী (ঢাকা-২৯)Ñ পিডিপি
১২১। খলিলুর রহমান তালুকদার (ফরিদপুর-৩)Ñ পিডিপি
১২২। শাহ মোহাম্মদ জাকারিয়া (ফরিদপুর-৪)Ñ জামায়াত
১২৩। আলাউদ্দিন খান (ফরিদপুর-৫)Ñ জামায়াত
১২৪। অধ্যাপক সাইয়েদ মোহাম্মদ আলী (ফরিদপুর-৭)Ñ জামায়াত
১২৫। মোশাররফ হোসেন (ফরিদপুর-৯)Ñ পিডিপি
১২৬। এ কিউ এম জয়নাল আবেদীন (ফরিদপুর-১০)Ñ কাইয়ুম
১২৭। শরাফত হোসেন চৌধুরী (ফরিদপুর-১২)Ñ পিডিপি
১২৮। শামসুল হুদা চৌধুরী (ফরিদপুর-১৩)Ñ পিডিপি
১২৯। শামসুর রহমান (ফরিদপুর-১৭)Ñ পিডিপি
১৩০। মোহাম্মদ সোলায়মান (ফরিদপুর-১৮)Ñ পিডিপি
১৩১। আবদুস সালাম (মোমেনশাহী-৭)Ñ পিডিপি
১৩২। আবদুল আউয়াল মিয়া (ঢাকা-৩)Ñ কনভেনশন
(অসমাপ্ত)

একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব
একাত্তরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যায়নি। ওই সময়ে দৈনিক সংগ্রাম-এ প্রকাশিত খবর থেকে যেসব নাম ও পদবী পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে এই তালিকা :
১. সাইয়্যেদ আবু আলা মওদুদী– আমীর, পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী
২. মিয়া তোফায়েল মোহাম্মদ– ভারপ্রাপ্ত আমীর, পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী
৩. মওলানা আবদুর রহীমÑ নায়েবে আমীর, পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী
৪. চৌধুরী রহমতে এলাহীÑ সেক্রেটারি জেনারেল, পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী
৫. মেজর জেনারেল (অব) ওমরাও খানÑ কেন্দ্রীয় নেতা, পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী
৬. গোলাম আযমÑ শুরা সদস্য. পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী
৭. আবদুল খালেকÑ  শুরা সদস্য. পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী

পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের মজলিসে শুরা (৩-৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত)
১. গোলাম আযম (পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমীর)
২. মওলানা আবদুর রহীম (পাকিস্তান জামায়াতের নায়েবে আমীর)
৩. আবদুল খালেক (পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক)
৪. আব্বাস আলী খান
৫. এ কে এম ইউসুফ
৬. কে জে মুরাদ (ঢাকা জামায়াতের প্রাক্তন আমীর)
অন্যান্য প্রাদেশিক জামায়াত নেতা
১. নূরুজ্জামান– প্রচার সম্পাদক
২. শফিকুল্লাহ– শ্রম ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক
উপ-নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন কমিটি
১. গোলাম আযম– প্রধান
২. শফিকুল্লাহ– সেক্রেটারি
৩. আবদুল খালেকÑ সদস্য
৪. অধ্যাপক গোলাম সারওয়ারÑ সদস্য
৫. নূরুজ্জামানÑ সদস্য
উপ-নির্বাচন পরিচালনা কমিটি
১. প্রিন্সিপাল রুহুল কুদ্দুসÑ ভারপ্রাপ্ত প্রধান
২. রফি আহমদ রিজভী
৩. শেখ নূরুদ্দীন
৪. সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক
৫. এস এম এইচ হুমায়ুন
৬. তমিজউদ্দীন
৭. মাহবুবুর রহমান গোরহা
বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত
১. প্রিন্সিপাল রুহুল কুদ্দুস– প্রধান
২. অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন এম এ
৩. শেখ নূরুদ্দীন
৪. মাহবুবুর রহমান গোরহা
৫. মনসুর আলী বি কম
ঢাকা শহর জামায়াত নেতৃত্ব
১. অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার– আমীর
২. ইসকান্দার আলী খান– সাংগঠনিক সম্পাদক
৩. বদরে আলম– ট্রেনিং বিষয়ক (আদর্শিক) সম্পাদক
৪. অধ্যাপক ফজলে আজীম– প্রচার সম্পাদক
৫. এ বি এম খালেক মজুমদার– দপ্তর সম্পাদক

Advertisements

Leave a comment

Filed under History, War crimes

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s