পাকিস্তানি ঘাতকেরা

একাত্তরের নয় মাস বাংলাদেশকে রক্তগঙ্গায় ভাসিয়েছিল পাকিস্তানের বর্বর সামরিক বাহিনী এ দেশের কিছু ঘৃণিত দালালের যোগসাজশে। ওই সময় বাঙালিদের ওপর হামলে পড়েছিল এক লাখের মতো পাকিস্তানি সেনা। তারা এ দেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত ছিল। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলে পড়েছিল হায়নার দল। প্রথম ২৪ ঘণ্টার হামলায় শুধু ঢাকায়ই তারা হত্যা করে সাত হাজারের বেশি মানুষকে। পাকিস্তানিদের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডের ওয়াশিংটনে পাঠানো অনেকগুলো টেলিগ্রামেও ছিল ভয়াবহ গণহত্যার বিবরণ। একটি টেলিগ্রামের শিরোনামই ছিল ‘Selective Genocide’ অর্থাৎ বেছে বেছে গণহত্যা। ২৮ মার্চ পাঠানো ওই টেলিগ্রামে বলা হয়, ‘ঢাকায় পাকিস্তানি সেনারা যে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে আমরা তার নীরব ও আতঙ্কগ্রস্ত সাী। মার্শাল ল’ কর্তৃপরে কাছে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি তালিকা আছে আর সেই তালিকা ধরে তাদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।’ এতে আরো বলা হয়, ‘খতমের জন্য যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা ছাড়াও আছেন ছাত্রনেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিকরা। এ ছাড়া পাকিস্তানি সেনাদের মদদে অবাঙালিরা নিয়ম করে দরিদ্র লোকজনের বাড়িঘরে আক্রমণ করছে এবং খুন করছে বাঙালি ও হিন্দুদের।’


ঢাকায় সেই কালরাতের বর্বর অভিযান ও গণহত্যার বর্ণনা আছে ঘাতক বাহিনীরই তখনকার জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর (পরে ব্রিগেডিয়ার) সিদ্দিক সালিকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ বইয়েও। এতে বলা হয়েছে, ‘সেই রক্তাক্ত রাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলোÑ আগুনের শিখা আকাশকে বিদ্ধ করছিল। এক সময় ছড়িয়ে পড়লো ধোঁয়ার কুণ্ডলি, কিন্তু পরমুহূর্তেই সেটাকে ছাপিয়ে উঠলো আগুনের লকলকে শিখা।… উš§ুক্ত হয়ে গেলো নরকের দরজা।… একরাতেই অসাড় করে দেওয়া হলো ঢাকাকে।’ এভাবে পরের নয় মাসে গোটা দেশটাকেই রক্তগঙ্গা বানিয়ে দিলো পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। হত্যা করল ৩০ লাখের বেশি মানুষকে। নরপশুদের ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হলেন সাড়ে চার লাখের বেশি বাঙালি নারী।
ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালি জনসাধারণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার আগেই হিংস্র পাকিস্তানি সেনারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমান শেরাটন) আটকে রেখেছিল সব বিদেশি সাংবাদিককে। পরদিন জোর করে বিমানে তুলে দেওয়া হয়েছিল তাদের। তবে ওই সময় লুকিয়ে হোটেলের এয়ারকন্ডিশন সিস্টেমের প্যাসেজ ধরে ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর সাংবাদিক সাইমন ড্রিং এবং বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) ফটোসাংবাদিক মাইকেল লরেন্ট। পরে বাঙালি কর্মচারীরা রান্নাঘরে তাদের লুকিয়ে রাখেন। ২৭ মার্চ কার্ফ্যু তুলে নেওয়া হলে লুকিয়ে বাইরে বেরিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখেন সৈন্যদের চালানো ধ্বংসের চিত্র। পরে লন্ডনে গিয়ে জমা দেন প্রতিবেদন। ৩০ মার্চ সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ডেইলি টেলিগ্রাফ-এ। বিশ্ববাসীর কাছে সেটিই ছিল ২৫ ও ২৬ মার্চের ঢাকায় পাক হানাদার বাহিনীর ধ্বংসলীলার প্রথম চাুস বর্ণনা। সেই প্রতিবেদনের অংশবিশেষ :
‘আল্লাহ আর অখণ্ড পাকিস্তানের নামে চালানো অভিযানে ঢাকা আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং ভীত নগরী। ঠাণ্ডামাথায় পাকিস্তানি সৈন্যদের টানা ২৪ ঘণ্টা গোলাবর্ষণের পর ওই নগরীর সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। মাটির সঙ্গে মিশে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
ঠিক কত নিরীহ মানুষ এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে, সে হিসাব করা খুবই কঠিন। তবে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর ও ঢাকার হিসাব যোগ করলে এ সংখ্যা ১৫ হাজারে দাঁড়াবে। যা মাপা যায় তা হলো সামরিক অভিযানের ভয়াবহতা। ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে তাদের বিছানায়, কসাই নিহত হয়েছে তার ছোট্ট দোকানটিতে, ঘরের ভেতর জীবন্ত দগ্ধ হয়েছে নারী ও শিশু, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একসঙ্গে জড়ো করে মারা হয়েছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়িঘর, বাজার, দোকানপাট।
২৫ মার্চ রাতে বের হওয়া ট্যাংকবহরের প্রথম ল্য ছিল ছাত্ররা। ঢাকা আক্রমণে তিন ব্যাটালিয়ন সৈন্য ব্যবহƒত হয়Ñএকটি সাঁজোয়া, একটি গোলন্দাজ আর একটি পদাতিক। রাত ১০টার কিছু পর তারা ক্যান্টনমেন্ট ত্যাগ করে। মাঝরাতের ঠিক পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এম-২৪ ট্যাংকের ছত্রচ্ছায়ায় এক কলাম সৈন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করে। সৈন্যরা ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরি দখল করে সেটিকে ঘাঁটি বানিয়ে ছাত্রাবাসগুলোতে গোলাবর্ষণ করতে থাকে। ইকবাল হলে গোলা নিপে আর মেশিনগানের অবিরাম গুলিতে ২০০ ছাত্র নিহত হন। দুদিন পরও দেখা গেল, পোড়া রুমের মধ্যে পড়ে থাকা লাশ, বারান্দায় আর মাঠে লাশ, সবচেয়ে বেশি লাশ দেখা গেছে হলের পাশের পুকুরে। সাতজন শিক নিহত হন কোয়ার্টারে। আউট হাউসে ১২ সদস্যের একটি পরিবারকে গুলি করে মারা হয়। অন্য একটি হলে ছাত্রদের মেরে দ্রুত কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়ে তারপর ট্যাংক দিয়ে মাটি সমান করে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারী অন্য সাধারণ লোকজনকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। একটি রেললাইন বরাবর ২০০ গজ এলাকার বস্তিঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিকটস্থ একটি মার্কেটও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। দোকানের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা লোকজন মেশিনগানের গুলিতে প্রাণ হারান।
আরেক কলাম সৈন্য রাজারবাগে পুলিশ সদর দপ্তর আক্রমণ করে। ট্যাংকের গোলাবর্ষণের পর সৈন্যরা ঢুকে ব্যারাক মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। ধারণা করা হয়, ওই সময় সেখানে অবস্থানকারী ১১০০ পুলিশের মধ্যে অল্প কয়েকজনই রেহাই পেয়েছিল।
রাত ২টা নাগাদ ঢাকা পরিণত হলো জ্বলন্ত নগরীতে।’
হানাদারদের হত্যা আর ধ্বংসলীলা এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে হামলা শুরুর এক মাসের মধ্যেই (২৬ এপ্রিল ১৯৭১) নিউজ উইক সাময়িকীতে শিরোনাম হয়েছিলÑ ‘পাকিস্তান : শকুন আর পাগলা কুকুরের ভাগাড়’। সে বছরেরই ২ আগস্ট সংখ্যায় আরেকটি সচিত্র প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘বাংলা : একটি জাতিকে হত্যা’।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার মূলত ‘যুদ্ধে পরাজয়ের কারণ’ খতিয়ে দেখতে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে যা হামুদুর রহমান কমিশন নামে পরিচিত। ‘সংবিধান ধ্বংস করে রাজনৈতিক মতা দখল, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে মতা না দেওয়ার চক্রান্ত করা, সামরিক আইন জারি করে শাসনকাজে নিয়োজিত করে সশস্ত্রবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা নষ্ট করা এবং পাকিস্তান ভাঙার পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য’ হামুদুর রহমান কমিশন ১৯৬৯-’৭১ সালের দুষ্কর্মের নাটের গুরু ‘শীর্ষ ছয় সামরিক কর্মকর্তার প্রকাশ্যে বিচার হওয়া উচিত’ বলে সুপারিশ করে। এ ছয় কর্মকর্তা হলো :
১. পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান
২. সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খান
৩. প্রেসিডেন্টের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জে. এমজিএম পীরজাদা
৪. লে.জে. গুলহাসান
৫. মেজর জেনারেল উমর
৬. মেজর জেনারেল মিঠা।
কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, ‘এরা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্ব পাকিস্তানে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যার ফলে জনগণের আইন অমান্য আন্দোলন ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র বিদ্রোহ দেখা যায় এবং পরে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্যদের আÍসমর্পণ ঘটে এবং পাকিস্তান ভেঙে যায়।’
কমিশন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকারী ছয় সামরিক কমান্ডারের কোর্ট মার্শালে বিচারের সুপারিশ করে। এরা হলো :
১. পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজি
২. ঢাকার ৩৬ ডিভিশনের সাবেক জিওসি (অস্থায়ী) মে. জেনারেল মোহাম্মদ জামশেদ
৩. চাঁদপুরের ৩৯ ডিভিশনের সাবেক জিওসি (অস্থায়ী) মে. জেনাএরল এম এ রহিম খান
৪. ব্রিগেডিয়ার জি এম বাকির সিদ্দিকী
৫. ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ হায়াত
৬. ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ আসলাম নিয়াজি
এছাড়াও আরো কিছু উচ্চপদস্থ ও মাঝারি সেনা কর্মকর্তার বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত ও বিচারের সুপারিশ করে কমিশন।
একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কাছে আÍসমর্পনের সময় পাকিস্তানি সৈন্যের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজারের মতো। এদের যুদ্ধবন্দি হিসেবে প্রথমে পাঠানো হয় ভারতে। পরে চুক্তি অনুযায়ী ফেরত পাঠানো হয় পাকিস্তানে। তবে ১৯৫ জনকে চিহ্নিত করা হয় যুদ্ধাপরাধী হিসেবে। কথা ছিল যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত সেনাকর্মকর্তাদের বিচার করবে পাকিস্তান নিজেই।
প্রয়াত ভারতীয় কূটনীতিক জেএন দীতি তার Liberation and Beyond বইয়ে লিখেছেন, বাংলাদেশে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত হিসেবে প্রথমে চিহ্নিত করা হয়েছিল পাকিস্তান সশস্ত্রবাহিনীর ৪০০ কর্মকর্তাকে। কিস্তু ১৯৭২ সালের জুলাই মাস নাগাদ বাংলাদেশ সরকার এ সংখ্যা কমিয়ে আনে ১৯৫-এ। ব্রাসেলস ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ের শিক এবং বাংলাদেশ জেনোসাইড স্টাডিজের প্রধান আহমেদ জিয়াউদ্দিন কয়েক বছর আগে এমন ২০০ অভিযুক্ত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর তালিকা প্রকাশ করেন যারা একাত্তরে গণহত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ছিল। এদের মধ্যে ১৯৪ জন সেনাবাহিনীর এবং অন্যরা বিমান ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তা।

গণহত্যার অভিযোগে চিহ্নিত পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা
১. লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি
২. মে. জেনারেল নজর হুসেইন শাহ
৩. মে. জেনারেল মোহাম্মদ হুসেইন আনছারী
৪. মে. জেনারেল মোহাম্মদ জামশেদ
৫. মে. জেনারেল কাজী আবদুল মজিদ খান
৬. মে. জেনারেল রাও ফরমান আলী
৭. ব্রিগেডিয়ার আবদুল কাদির খান
৮. ব্রিগেডিয়ার আরিফ রাজা
৯. ব্রিগেডিয়ার আতা মুহাম্মদ খান মালিক
১০. ব্রিগেডিয়ার বশির আহমেদ
১১. ব্রিগেডিয়ার ফাহিম আহমেদ খান
১২. ব্রিগেডিয়ার ইফতেখার আহমেদ রানা
১৩. ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুর আহমেদ
১৪. ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুর হুসেইন আতিফ
১৫. ব্রিগেডিয়ার মিয়া মনসুর মুহাম্মদ
১৬. ব্রিগেডিয়ার মিয়া তাসকিন উদ্দিন
১৭. ব্রিগেডিয়ার মীর আবদুল নাইম
১৮. ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ আসলাম
১৯. ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ হায়াত
২০. ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ শাফি
২১. ব্রিগেডিয়ার এন এ আশরাফ
২২. ব্রিগেডিয়ার এস এ আনছারী
২৩. ব্রিগেডিয়ার সাদ উল্লাহ খান এস জে
২৪. ব্রিগেডিয়ার সৈয়দ আসগর হাসান
২৫. ব্রিগেডিয়ার সৈয়দ শাহ আবদুল কাসেম
২৬. ব্রিগেডিয়ার তাজমাল হুসেইন মালিক
২৭. কর্নেল ফজলে হামিদ
২৮. কর্নেল কে কে আফ্রিদী
২৯. কর্নেল মুহম্মদ খান
৩০. কর্নেল মুহাম্মদ মুশাররফ আলী
৩১. লে. কর্নেল আবদুল গফুর
৩২.  লে. কর্নেল আফতাব এইচ কুরেশী
৩৩.  লে. কর্নেল আবদুর রহমান আওয়ান
৩৪. লে. কর্নেল আবদুল হামিদ খান
৩৫. লে. কর্নেল আবদুল্লাহ খান
৩৬. লে. কর্নেল আহমেদ মুখতার খান
৩৭. লে. কর্নেল আমির মোহাম্মদ খান (৭ এসইসি এমএল)
৩৮. লে. কর্নেল আমির নওয়াজ খান
৩৯. লে. কর্নেল আমির মোহাম্মদ খান (৩৪ পাঞ্জাব)
৪০. লে. কর্নেল এ শামস উল জামান
৪১. লে. কর্নেল আশিক হুসেইন
৪২. লে. কর্নেল আজিজ খান
৪৩. লে. কর্নেল গোলাম ইয়াসিন সিদ্দিকী
৪৪. লে. কর্নেল ইসরাত আলী আলভী
৪৫. লে. কর্নেল মুক্তার আলম হীজাজী
৪৬. লে. কর্নেল  মোস্তফা আনোয়ার
৪৭. লে. কর্নেল  এম. আর কে মির্জা
৪৮. লে. কর্নেল মতলুব হোসেন
৪৯. লে. কর্নেল মোহাম্মদ আকরাম
৫০. লে. কর্নেল মোহাম্মদ আকবর
৫১. লে. কর্নেল মোহাম্মদ নওয়াজ
৫২. লে. কর্নেল মুমতাজ মালিক
৫৩. লে. কর্নেল এমএমএম বেইজ
৫৪. কর্নেল মোহাম্মদ মতিন
৫৫. লে. কর্নেল মাজহার হোসেন চৌহান
৫৬. লে. কর্নেল মুক্তাহার আহমেদ সৈয়দ
৫৭. লে. কর্নেল মুস্তাফাজান
৫৮. লে. কর্নেল ওমান আলী খান
৫৯. লে. কর্নেল রিয়াজ হোসেন জাভেদ
৬০. লে. কর্নেল রশিদ আহমেদ
৬১. লে. কর্নেল শেখ মোহাম্মদ নাঈম
৬২. লে. কর্নেল সারফাজ খান মালিক
৬৩. লে. কর্নেল এসএফএইচ রিজভি
৬৪. লে. কর্নেল এসএইচ বুখারি
৬৫. লে. কর্নেল সৈয়দ হামিদ সাফি
৬৬. লে. কর্নেল সুলতান বাদশাহ
৬৭. লে. কর্নেল সুলতান আহমেদ
৬৮. লে. কর্নেল এসআরএইচএস জাফরি
৬৯. লে. কর্নেল জায়েদ আগা খান
৭০. লে. কর্নেল এমওয়াই মালিক
৭১. মেজর আবদুল গাফরান
৭২. মেজর আনিস আহমেদ
৭৩. মেজর আরিফ জাভেদ
৭৪. মেজর আতা মোহাম্মদ
৭৫. মেজর আবদুল হামিদ
৭৬. মেজর এএসপি কোরেশী
৭৭. মেজর আশফাক আহমেদ চীমা
৭৮. মেজর আবদুল খালেক কায়ানি
৭৯. মেজর আবদুল ওয়াহেদ মুঘল
৮০. মেজর আবদুল হামিদ খাট্টাক
৮১. মেজর আহমেদ হাসান খান
৮২. মেজর আনিস আহমেদ খান
৮৩. মেজর আবদুল ওয়াহিদ খান
৮৪. মেজর সিএইচ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
৮৫. মেজর গোলাম মোহাম্মদ
৮৬. মেজর গোলাম আহমেদ
৮৭. মেজর গাজ্জানফার আলী নাসির
৮৮. মেজর হাদি হোসেন
৮৯. মেজর হাসান মুজতবা
৯০. মেজর ইফতিখার উদ্দিন আহমেদ
৯১. মেজর ইফতিখার আহমেদ
৯২. মেজর শাহ্ মোহাম্মদ ওসমান ফারুকী
৯৩. মেজর খুরশীদ ওমান
৯৪. মেজর খুরশীদ আলী
৯৫. মেজর খিজার হায়াৎ
৯৬. মেজর মেহের মোহাম্মদ খান
৯৭. মেজর এম আবদুল্লাহ খান
৯৮. মেজর মোহাম্মদ আফজাল
৯৯. মেজর এম ইসহাক
১০০. মেজর মোহাম্মদ হাফিজ রাজা
১০১. মেজর মোহাম্মদ ইউনুস
১০২. মেজর মোহাম্মদ আমিন
১০৩. মেজর মোহাম্মদ লোধী
১০৪. মেজর মির্জা আনোয়ার বেগ
১০৫. মেজর এমএকে লোধী
১০৬. মেজর মাদাদ হোসেন শাহ্
১০৭. মেজর মোহাম্মদ আইউব খান
১০৮. মেজর মোহাম্মদ শরিফ আরিয়ান
১০৯. মেজর মোহাম্মদ ইফতেখার খান
১১০. মেজর এম ইয়াহিয়া হামিদ খান
১১১. মেজর মোহাম্মদ ইয়ামিন
১১২. মেজর মোহাম্মদ গজনফর
১১৩. মেজর মোহাম্মদ সারওয়ার
১১৪. মেজর মোহাম্মদ সিদ্দিকী
১১৫. মেজর মোহাম্মদ আশরাফ
১১৬. মেজর মোহাম্মদ আশরাফ খান
১১৭. মেজর মোহাম্মদ সফদার
১১৮. মেজর এমএম ইস্পাহানী
১১৯. মেজর মোহাম্মদ জামিল
১২০. মেজর মোহাম্মদ সফি
১২১. মেজর মো. আজিম কোরেশী কোরেস
১২২. মেজর মো. জুলফিকার রাথুর
১২৩. মেজর মোশতাক আহমেদ
১২৪. মেজর নাসির খান
১২৫. মেজর নাসির আহমেদ
১২৬. মেজর রানা জহুর মহিউদ্দিন খান
১২৭. মেজর রিফাত মাহমুদ
১২৮. মেজর রুস্তম আলী
১২৯. মেজর আরএম মমতাজ খান
১৩০. মেজর সরদার খান
১৩১. মেজর মোহাম্মদ আজম খান
১৩২. মেজর সাইফ উল্লাহ খান
১৩৩. মেজর এসটি হোসেন
১৩৪. মেজর এসএমএইচএস বুখারী
১৩৫. মেজর সাজিদ মাহমুদ
১৩৬. মেজর শের-উর-রেহমান
১৩৭. মেজর সালামত আলী
১৩৮. মেজর সাজ্জাদ আখতার মালিক
১৩৯. মেজর সেলিম এনায়েত খান
১৪০. মেজর সুলতান সাউদ
১৪১. মেজর সরফরাজ উদ্দিন
১৪২. মেজর শওকাতুল্লাক খাট্টাক
১৪৩. মেজর সুলতান সুরখরো আওয়ান
১৪৪. মেজর সরফরাজ আলম
১৪৫. মেজর সারওয়ার খান
১৪৬. মেজর তাফির-উল ইসলাম
১৪৭. মেজর জাউমুল মালুক
১৪৮. ক্যাপ্টেন আবদুল ওয়াহিদ
১৪৯. ক্যাপ্টেন আফতাব আহমেদ
১৫০. ক্যাপ্টেন আরিফ হোসেন শাহ
১৫১. ক্যাপ্টেন আবরার হোসেন
১৫২. ক্যাপ্টেন আমজাদ শাব্বির বুখারী
১৫৩. ক্যাপ্টেন আউসাফ আহমেদ
১৫৪. ক্যাপ্টেন আবদুল কাহার
১৫৫. ক্যাপ্টেন আসরাফ মির্জা
১৫৬. ক্যাপ্টেন আবদুল রশিদ নায়ার
১৫৭. ক্যাপ্টেন আমান উল্লাহ
১৫৮. ক্যাপ্টেন আজিজ আহমেদ
১৫৯. ক্যাপ্টেন গুলফরাজ খান আব্বাসী
১৬০. ক্যাপ্টেন ইকরামুল হক
১৬১. ক্যাপ্টেন ইজাজ আহমেদ চীমা
১৬২. ক্যাপ্টেন ইফতিখার আহমেদ গোনদাল
১৬৩. ক্যাপ্টেন ইসহাক পারভেজ
১৬৪. ক্যাপ্টেন ইকবাল শাহ
১৬৫. ক্যাপ্টেন জাভেদ ইকবাল
১৬৬. ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর কৈয়ানি
১৬৭. ক্যাপ্টেন কারাম খান
১৬৮. ক্যাপ্টেন মানজার আমিন
১৬৯. ক্যাপ্টেন মুজাফফর হোসেন নকভি
১৭০. ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ
১৭১. ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জাকির রাজা
১৭২. ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ
১৭৩. ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আশরাফ
১৭৪. ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইকবাল
১৭৫. ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ রাফি মুনির
১৭৬. ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জামিল
১৭৭. ক্যাপ্টেন নাঈম আকিব
১৭৮. ক্যাপ্টেন শের আলী
১৭৯. ক্যাপ্টেন সালমান মাহমুদ
১৮০. ক্যাপ্টেন শামশেদ সারওয়ার
১৮১. ক্যাপ্টেন শহীদ রেহমান
১৮২. ক্যাপ্টেন সালেহ হুসেইন
১৮৩. ক্যাপ্টেন শওকত নওয়াজ খান
১৮৪. ক্যাপ্টেন জাহিদ জামান
১৮৫. লেফটেন্যান্ট মুনীর আহমেদ বাট
১৮৬. লেফটেন্যান্ট জাফর জং
১৮৭. মেজর নাসির আহমেদ খান শেরওয়ানী
১৮৮. মেজর ফায়াজ মোহাম্মদ
১৮৯. মেজর মিয়া ফখরুদ্দিন
১৯০. ক্যাপ্টেন হেদায়েত উল্লাহ খান
১৯১. ক্যাপ্টেন মো. সিদ্দিকী
১৯২. ক্যাপ্টেন খলিল উর রহমান
১৯৩. মেজর নাদির পারভেজ খান
১৯৪. ক্যাপ্টেন হাসান ইদ্রিস
১৯৫. এয়ার কমোডর ইনাম উল হক খান
১৯৬. গ্র“প ক্যাপ্টেন এমএ মজিদ বেগ
১৯৭. ফাইট লেফটেন্যান্ট খলিল আহমেদ
১৯৮. রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শরিফ
১৯৯. কমোডর ইকরামুল হক মালিক
২০০. কমোডর খতিব মাসুদ হোসেন
তালিকাটি পূর্ণাঙ্গ নয়। যারা আÍসমর্পণের পর যুদ্ধবন্দি ছিল, তাদের মধ্য থেকেই এই তালিকা করা হয়। অথচ একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের আগে যারা পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে টিক্কা খানের মতো জঘন্য যুদ্ধাপরাধী-গণহত্যাকারীও রয়েছে।

 

Advertisements

Leave a comment

Filed under History, War crimes

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s