প্রসিকিউশনকে আবারো ভর্ৎসনা আইসিটির : কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ৭ অভিযোগের ৪টিরই প্রমাণ দিতে ব্যর্থ রাষ্ট্রপক্ষ

নাগরিকদের দিক থেকে বারবার সমালোচনা সত্ত্বেও টনক নড়ছে না সরকারের। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে মানসম্পন্ন প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদল) গড়ার কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না সরকার। প্রসিকিউশনের ব্যর্থতায় এর আগে গোলাম আযমসহ শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ ফেরত দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষী হাজির করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে প্রসিকিউশন। এবার কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মামলায় যা ঘটেছে তাতে কেলেঙ্কারির একশেষ!
‌একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মিরপুরে কবি মেহেরুন্নেসাকে হত্যার সঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। শুধু মেহেরুন্নেসা হত্যাই নয়, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগের মধ্যে চারটির পক্ষেই সাক্ষ্য-প্রমাণ দেখাতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রাইব্যুনাল। আর এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তাকে তলবও করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে বুধবার (১৪ মার্চ)কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী সাতটি অভিযোগ উত্থাপন করেন। উপিস্থত একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে জানা যায়, ট্রাইব্যুনালে মোহাম্মদ আলী বলেন, মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র শফিক পল্লবকে নবাবপুর থেকে ধরে মিরপুরে কাদের মোল্লার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁর নির্দেশে পল্লবকে ১২ নম্বর সেকশনে একটি গাছে ঝুলিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে আরো পাঁচজনের সঙ্গে তাঁকে কালাপানি এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ অভিযোগের পক্ষে তিনি ২০০৭ সালে শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ নামের একটি বই উপস্থাপন করেন। ওই সময় ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, ‘এ বই ছাড়া আর কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ নেই?’ জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, ‘পাওয়া যায়নি।’ এরপর ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘ওই বইতেই উল্লেখ আছে, ফজর আলী নামের এক ব্যক্তি গণতদন্ত কমিশনের কাছে ওই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন। শাহরিয়ার কবির লোকটিকে পেলেন। আর আপনারা পেলেন না। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? আসলে আপনারা ঘটনাস্থলেই যাননি বলে মনে হয়। শাহরিয়ার কবিরের বই থেকে তুলে দিয়েছেন।’ এরপর ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন।
পরে কবি মেহেরুন্নেসাকে হত্যার অভিযোগ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কাদের মোল্লার সম্পৃক্ততা প্রমাণের জন্য কোনো সাক্ষী আছে কি না তা প্রসিকিউটরের কাছে জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে প্রসিকিউর ২০০৭ সালে দৈনিক ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদন এবং শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত বইটির কথা বলেন। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা কাউকে পাননি। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত বইটি থেকে বলেন, ‘এখানে শহিদুর রহমান চৌধুরী নামের এক ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে দেখা যায়। শাহরিয়ার কবির সাহেব তাঁকে পেলেন। আর আপনারা পেলেন না?’ ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘১৯৭২ সালের পর থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শতাধিক রিপোর্ট হয়েছে। অথচ আপনারা একটিও পেলেন না। আমরা সব জানি। আর্কাইভ খোঁজেন। বেগম পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ৬৬, পাটুয়াটুলী যান। ঠিকানা দিলাম।’
এরপর প্রসিকিউটর শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া থেকে হাজার হাজার লোককে ধরে নিয়ে শিয়ালবাড়ী এলাকায় হত্যা করার সঙ্গে কাদের মোল্লা জড়িত বলে অভিযোগ উত্থাপন করেন। কিন্তু যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের কোনো নাম-ঠিকানা তিনি বলতে পারেননি। ওই সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘কিসের ভিত্তিতে এ অভিযোগ আনলেন?’ জবাবে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী বলেন, লোক মুখে শুনে। এরপর ট্রাইব্যুনাল চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভেগের (vague) একটা সীমা আছে।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Crimes against huminity, Uncategorized, War crimes

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s