আর কত মিথ্যাচার করবে গো আযমরা!

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ ১৩ মে  অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে বেলা একটা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা, উসকানি, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্র ও হত্যা-নির্যাতনের পাঁচ ধরনের অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হলো। অভিযোগ গঠনের শেষ দিকে ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমের কাছে তিনি দোষী না নির্দোষ জানতে চায়। জবাবে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো গোলাম আযম বলেন, ‘এতো অল্প সময়ে এতো অভিযোগের বিষয়ে কথা বলা যায় না। তবে আমি নিজেকে দোষী মনে করি না।’ তিনি আরো বলেন, ‌‘১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের যে তালিকা হয়েছিল, তাতে আমার নাম ছিল না। আমার নাম ছিল দালালদের তালিকায়। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার সে সময় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। সেই হিসাবে আমি আগেই ক্ষমা পেয়ে গেছি।’
বলা দরকার যে, গোলাম আযম যে তালিকার কথা ট্রাইব্যুনালে উল্লেখ করলেন সেটি ছিল যুদ্ধবন্দি হিসেবে থাকা পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্তদের। ওই তালিকায় এমনকি টিক্কা খানেরও নাম ছিল না। কারণ টিক্কা ১৬ ডিসেম্বরের আগেই চলে গিয়েছিল। এর মানে এই নয় যে, বাংলাদেশ চাইলে টিক্কার বিচার করতে পারত না। ওই তালিকায় নাম না থাকলেই কেউ নির্দোষ বা নিরপরাধ হয়ে যায় না।
গোলাম আযম দাবি করেছেন, বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার কারণে নাকি তিনিও ক্ষমা পেয়ে গেছেন! এর চেয়ে কুযুক্তি আর কি হতে পারে? দালাল আইনে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যারা খুন, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি গুরুতর ও নির্দিষ্ট অপরাধের সাথে জড়িত ছিল না, তাদের প্রতি বঙ্গবন্ধু সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন ১৯৭৩ সালের ৩০ নবেম্বর। ওই ঘোষণায় পরিস্কার বলা হয়, ‌‌‘এই আদেশবলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা), ৩০৪ ধারা (হত্যার চেষ্টা), ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণ), ৪৩৫ ধারা (অগ্নিসংযোগ কিংবা বিস্ফোরক দ্বারা অপকর্ম সাধন) এবং ৪৩৮ ধারা (জাহাজে অগ্নিসংযোগ অথবা বিস্ফোরক দ্বারা অপকর্ম সাধন) মোতাবেক অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ১ নম্বর অনুচ্ছেদ মোতাবেক ক্ষমা প্রদর্শন প্রযোজ্য হবে না।’ বঙ্গবন্ধুর ওই ঘোষণায় কোনো দোষী ব্যক্তিকেই ক্ষমা করা হয়নি।
এর আগে গোলাম নিজেকে ভাষা সৈনিক হিসেবে প্রচার করতে শুরু করেছিলেন। কিছুদিন আগে ট্রাইব্যুনালে তার আইনজীবীও গোলামকে ভাষা সৈনিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। অথচ ১৯৭০ সালের জুন মাসে পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুর শহরে এক বক্তৃতায় এই জামায়াত নেতা বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল এক মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল এবং তিনি নিজে এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য দু:খিত। গোলাম আযম ভাষা আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে গিয়ে বলেছিলেন, উর্দু হচ্ছে এমন একটা ভাষা যার মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার উপযুক্ত প্রচার ও প্রসার সম্ভব। কারণ ‘উর্দু পাক-ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের সাধারণ ভাষা এবং এতে তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পদ সংরক্ষিত রয়েছে।’ নিজের ভ্রান্ত ভূমিকা সম্পর্কে খেদোক্তি করতে গিয়ে গোলাম আযম আরও বলেন, বাংলা ভাষা আন্দোলন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দৃষ্টিকোণ থেকে মোটেই সঠিক কাজ হয়নি। (দৈনিক আজাদ, ২০ জুন, ১৯৭০)
জামায়াতীদের মিথ্যাচারের এমন নজির ভুরি ভুরি আছে।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Bangladesh liberation war, Crimes against huminity, History, War crimes

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s