এবার কামারুজ্জামানের বিচার শুরু : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত অভিযোগ গঠন

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতটি অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আজ ৪ জুন বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, দেশত্যাগে বাধ্যকরাসহ সাতিট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে কামারুজ্জামানের বিচার শুরু হলো। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ নিয়ে সাতজনের বিচার শুরু হলো।
কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২ জুলাই থেকে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে।
আদেশে বলা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কামারুজ্জামান বৃহত্তর ময়মনসিংহে আলবদরের প্রধান সংগঠক ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ও সহযোগিতায় আল-বদর বাহিনী ও পাকিস্তানি সেনারা ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর প্রভৃতি এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠন এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ পড়ে শোনান।
বদিউজ্জামানকে হত্যা
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে একাত্তর সালের ২৯ জুন শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার কালীনগর গ্রামে ফজলুল হকের ছেলে বদিউজ্জামানকে রামনগর গ্রামের আহম্মদ মেম্বারের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় আলবদর বাহিনীর সদস্যরা। এরপর তাকে নির্যাতন করে আহম্মদনগরের রাস্তার ওপরে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ টেনে নিয়ে কাছাকাছি কাঠের পুলের নিচে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
প্রভাষক আব্দুল হান্নানকে নির্যাতন
একাত্তরের মে মাসের মাঝামাঝি এক দুপুরে শেরপুর কলেজের তৎকালীন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ আব্দুল হান্নানকে খালি গায়ে মাথা ন্যাড়া করে, গায়ে ও মুখে চুনকালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে উলঙ্গ অবস্থায় চাবুক দিয়ে পেটাতে পেটাতে শেরপুর শহর ঘোরায় আসামি কামারুজ্জামান ও তার সহযোগীরা।
সোহাগপুরে গণহত্যা
একাত্তরের ২৫ জুলাই ভোর বেলায় কামারুজ্জামানের পরিকল্পনা ও পরামর্শে রাজাকার, আলবদরসহ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুর গ্রাম ঘিরে ফেলে। এরপর তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১২০ জন পুরুষকে ধরে এনে হত্যা করে। ধর্ষণের শিকার হন গ্রামের মহিলারা।
গোলাম মোস্তফাকে হত্যা
১৯৭১ সালের ২৩ অগাস্ট মাগরিবের নামাজের সময় গোলাম মোস্তফা তালুকদারকে ধরে নিয়ে যায় আলবদর বাহিনীর সদস্যরা। কামারুজ্জামানের নির্দেশে তাকে সুরেন্দ্র মোহন সাহার বাড়িতে বসানো আলবদর ক্যাম্পে রাখা হয়। মোস্তফার চাচা তোফায়েল ইসলাম এরপর কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে তার ভাতিজাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ওই রাতে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা গোলাম মোস্তফা ও আবুল কাশেম নামের আরেক ব্যক্তিকে মৃগি নদীর ওপর শেরি ব্রিজে নিয়ে গিয়ে গুলি করে। গুলিতে গোলাম মোস্তফা নিহত হলেও হাতের আঙ্গুলে গুলি লাগায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যান আবুল কাশেম।
লিয়াকতসহ ৮ জনকে হত্যা
একাত্তরে রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে এক সন্ধ্যায় শেরপুরের চকবাজারের বাসা থেকে মো. লিয়াকত আলী ও আরো ১১ জনকে আটক করে ঝিনাইগাতী আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায় আলবদর বাহিনীর সদস্যরা। এরপর তিনজন ছাড়া বাকি সবাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলি করার সময় আসামি কামারুজ্জামান ও তার সহযোগী কামরান সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
দিদারসহ কয়েকজনকে নির্যাতন
একাত্তরের নভেম্বর মাসে দিদারসহ কয়েকজনকে ময়মনসিংহ শহরের জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় ধরে নিয়ে যায় আলবদর বাহিনী। পাকিস্তানের পক্ষে বক্তব্য দিতে বাধ্য করতে সেখানে নির্যাতন চলে তাদের ওপর।
দারাসহ ছয়জনকে হত্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৭ রোজার দিন দুপুরে ময়মনসিংহ শহরের গোলাপজান রোডে টেপা মিয়ার বাড়ি ঘেরাও করে আলবদর বাহিনী টেপা মিয়া ও তাঁর বড় ছেলে জহুরুল ইসলাম দারাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় আলবদর ক্যাম্পে। পরদিন কামারুজ্জামানের নির্দেশে টেপা মিয়া ও দারাসহ সাতজনকে ব্রহ্মপুত্রপারে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হয়। টেপা মিয়া বেঁচে গেলেও অন্যরা প্রাণ হারান।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Bangladesh liberation war, Crimes against huminity, War crimes

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s