সিআইএর গোপন দলিল [ডেটলাইন : ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১] স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাতীয় সরকার চেয়েছিলেন ইন্দিরা

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকার কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়ে যায় প্রবাসী সরকার এমনকি মিত্র ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়েও। ভারত সরকার চেয়েছিল বাংলাদেশে যেন একদলীয় সরকার না হয়ে একটি জাতীয়ভিত্তিক সরকার হয়। আওয়ামী লীগ এটা পছন্দ না করলেও ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এ ধরনের একটি সরকার গঠনের বিষয়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে সমঝোতায় পেঁৗছেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) এক গোপন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সিআইএ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের দিন এই প্রতিবেদন দিয়েছিল।
সিআইএর ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ভারত সরকার বাংলাদেশে বর্তমান অস্থায়ী (প্রভিশনাল) সরকারের মতো একদলীয় (আওয়ামী লীগের) সরকার না করে একটি জাতীয়ভিত্তিক সরকার গঠনের ওপর জোর দেবে। আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে বিরোধিতা করে আসছে; তবে খবর পাওয়া গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ৯ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে একটি ঐকমত্যে (এগ্রিমেন্ট) পেঁৗছেছেন। ওই উপদেষ্টা পরিষদ কয়েক মাস আগেই গঠিত হয় এবং এতে মস্কোপন্থী কমিউস্টরাও আছেন। ওই এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, নতুন বাংলাদেশ সরকারের নিউক্লিয়াস গঠন করবে উপদেষ্টা পরিষদ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বর্তমান সরকারের (বাংলাদেশ) সদস্যদের ক্ষেত্রে কী ঘটবে তা স্পষ্ট নয়।
স্মরণযোগ্য যে, ওই উপদেষ্টা পরিষদে বামপন্থী রাজনীতিকদের মধ্যে ছিলেন মস্কোপন্থী হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কমরেড মনি সিংহ, ন্যাপের অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এবং পিকিংপন্থী হিসেবে পরিচিতি ন্যাপ অপরাংশের মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। পরিষদের নয় সদস্যের মধ্যে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদই কেবল জীবিত আছেন।
প্রতিবেদনের প্রথম অধ্যায়টির শিরোনাম ‘বাংলাদেশ_ দ্য নিউ গভর্নমেন্ট টেকস শেইপ’। শুরুতেই বলা হয়, ”নয়াদিলি্লতে একজন সরকারি মুখপাত্র আজ (১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১) জানিয়েছেন, বাংলাদেশে নতুন বেসামরিক প্রশাসন আগামীকালই দায়িত্ব নিতে পারে। ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব লাল ঘোষণা করেছেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের চারজন সদস্য আজই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। লাল আরো জানান, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন যখন বন্ধ হবে, তখনই যুদ্ধবন্দি পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে’।”
সিআইএর এ রিপোর্টটি ২০০২ সালের ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি আর্কাইভে উন্মুক্ত (ডিক্লাসিফাইড) করা হয়। পাঁচ পৃষ্ঠার রিপোর্টটিতে আরো বলা হয়, মুক্তিবাহিনী নতুন সরকারের জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করছে না_ এ বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় সৈন্যদের বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে না।
দলিলের কোনো কোনো অংশ স্পর্শকাতর মনে করে কালি দিয়ে মুছে দেওয়া হয় প্রকাশ করার আগে।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Bangladesh liberation war, History, Politics

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s