মমতা : অতি দর্পে হত লঙ্কা!

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁথে প্রথমে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং শেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন একরোখা হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ইসু্যতে কারো কারো চোখে তিনি হয়ে উঠেন আপোসহীন! ক্ষমতা পাওয়ার পর তার গোয়ার্তুমি তুঙ্গে ওঠে। এর বহিপ্রকাশ ঘটান তিনি প্রথমে বাংলাদেশ-ভারত তিস্তা চুক্তি সই করার ক্ষেত্রে বাগড়া দিয়ে। কদিন আগে তাদেরই জোটের প্রধান দল কংগ্রেসের রাস্ট্রপতি পদপ্রার্থী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বিপরীতে অন্যজনকে সমর্থন দিয়ে বসেন মমতা। যদিও সেই ভদ্রলোক পরে আর প্রার্থীই হননি।
এবার আরেকটি ধাক্কা আসলো মমতার োপর আদালত থেকে। পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে কারখানা করার জন্য টাটা মোটরসকে ইজারা দেওয়া জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষে বিধানসভায় পাস করা আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের করা সিঙ্গুর ল্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ডেভলেপমেন্ট অ্যাক্ট, ২০১১ বাতিল করে আজ ২২ জুন রায় দেয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, এর আগে গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর এ আইনকে বৈধতা দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি আইপি মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চ। ওই আদেশের বিরুদ্ধে টাটা মোটরস আপিল করলে বিচারপতি পিনাকি চন্দ্র ঘোষ ও মৃণাল কান্তি চৌধুরীর বেঞ্চকে বিষয়টি নিস্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকাকালে বিশ্বের সবচেয়ে কম দামি গাড়ি ‘ন্যানোর’ কারখানা করার জন্য টাটা মোটরসকে সিঙ্গুরে ৯৯৭ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছিল। এজন্য ১৩ হাজার মালিকের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করেছিল তখনকার সরকার। তবে তাদের মধ্যে দুই হাজার কৃষক ৪০০ একর জমি দিতে অস্বীকার করেন।
সেই সময় বিরোধী দলে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাটা মোটরসকে ওই জমি ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলেন। দুই হাজার কৃষককে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। মমতার আন্দোলনের মুখে ২০০৮ সালের অক্টোবরে সিঙ্গুরে কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে গুজরাটে ন্যানো প্রকল্প শুরু করে টাটা।
২০১১ সালের মে মাসে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টকে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সিঙ্গুর ল্যান্ড রিহাবিলিটেশন অ্যান্ড ডেভলেপমেন্ট অ্যাক্ট, ২০১১ পাস করান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ আইনের আওতায় তিনি টাটার কাছ থেকে জমি ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা লাভ করেন। টাটা এর বিরুদ্ধে আদালতে যায়। তাদের দাবি, সিঙ্গুরে কারখানা করার জন্য তারা ১৫০০ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছে। এখন ওই অর্থ ফেরতও চাইছে তারা।
কথায় আছে, ‌‘অতি বাড় বেড়ো না ঝড়ে পড়ে যাবে। আরেকটি প্রবাদ হলো ‘অতি দর্পে হত লঙ্কা।’ এ দুটো কথাই কি মমতার ক্ষেত্রে সত্যি হতে চলেছে? টাইমস অব ইন্ডিয়া আজ সিঙ্গুর সংক্রান্ত সংবাদটির  শিরোনাম করেছে Tatas win Singur land case, huge setback for Mamata Banerjee।

Advertisements

Leave a comment

Filed under International, Politics

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s