কিছুই অপ্রত্যাশিত ছিল না, একটুখানি অস্বস্তি বাদে

যেমনটি হওয়ার কথা ছিল, ঠিক তেমনটিই হয়েছে। জনতার ঢল সামাল দেওয়া যে কঠিন হবে সে চিন্তাটা মাথায় ছিল আয়োজকদের। নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু কয়েক দিন আগে থেকেই বলে আসছিলেন, প্রিয় সাহিত্যিক, নাট্যকার ও নির্মাতাকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। সে জন্য শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং ব্যারিকেডও তৈরি করা হয়। কিন্তু কোনো কিছুই তেমন কাজে আসেনি। জনতার ভিড়ে এদিকে-ওদিকে বারবার ভেঙে পড়ছিল ব্যারিকেড। কিছুক্ষণের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও কে রুধতে পারে জনস্রোত?

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ তিন ঘণ্টার বেশি সময় ছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। আরো তিন ঘণ্টা রাখা হলেও কি শেষ হতো প্রিয় মানুষটির পাশ দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবে হেঁটে যাওয়ার পর্ব? মনে হয় না। লাল গোলাপ হাতে নিয়ে দীর্ঘ সময় অপোয় ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু। এরপর বুঝে গেছেন, হুমায়ূন আহমেদের কফিনের সামনে যাওয়ার সুযোগ আর পাবেন না। অতএব হতাশা নিয়েই চলে গেলেন। দুপুর পৌনে ২টার দিকেও দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছাকাছি পর্যন্ত মানুষের লাইন। নানা বয়সের, নানা স্তরের মানুষ। একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বললেন, ‘অফিসে থাকতে পারছিলাম না। বসকে বলে চলে এসেছি।’ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যদের মনও যেন উসখুস করছিল প্রিয় লেখকের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার জন্য! পুলিশের একটি সাংস্কৃতিক দল যখন ফুল নিয়ে যাচ্ছিল শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তখন ওই দলের সঙ্গে যাওয়ার জন্য আরো কয়েকজনকে দেখা গেল ছটফট করতে। এক নারী সদস্য তো শেষ মুহূর্তে দৌড়ে গিয়ে শামিলই হয়ে গেলেন।
তবে শোক-ভালোবাসার মধ্যে খানিকটা অস্বস্তিও দেখা গেল কারো কারো মধ্যে। বড় ভাইকে হারানোর কষ্ট বুকে নিয়েও বারবার এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে নানাজনের সঙ্গে পরামর্শ করছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল দাফন কোথায় হবে সে নিয়ে। সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও। বিষয়টি নিয়ে সারাণ উদ্বিগ্ন দেখা গেছে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুসহ হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠদের। শাকুর মজিদের সঙ্গে দেখা দুই দশকেরও বেশি সময় পর। পরিচয় পেয়েই পাশের জনকে বলছিলেন, ১৯৯১ সালে আমার সঙ্গে মোহনগঞ্জ গিয়েই হুমায়ূন আহমেদের নানাবাড়ি চেনা এবং সেই বাড়ির ছবি তোলার কথা। তবে স্মৃতিচারণ বেশিণ চালাতে পারলেন না। বিদায় নিয়ে চলে গেলেন হুমায়ূনের দাফনের স্থান ঠিক হলো কি না তার খোঁজ নিতে।
দাফন যেখানেই হোক, হুমায়ূন আহমেদের আসল ঠিকানা তো কোটি মানুষের হৃদয়। কিন্তু তাঁর মরদেহ শায়িত হবে কোথায় সে নিয়ে টানাপড়েনটা কাঁটার মতোই বিঁধল অনেকের মনে। এ অস্বস্তিটাই কেবল অপ্রত্যাশিত।

 

Advertisements

Leave a comment

Filed under Uncategorized

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s