প্রস্তুতি ছাড়াই সাক্ষ্য দিচ্ছেন গবেষকরা!

একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে রাষ্ট্রপক্ষে গবেষক হিসেবে যারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, আসামিপক্ষের জেরার মুখে তাদের অবস্থা দেখে লজ্জায় মাথা কাটা যাওয়ার মতো অবস্থা অনেকেরই। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনকে গত জুলাই মাসে বেশ কয়েকদিন ধরে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধকালে নানা ঘটনা নিয়ে জেরার একপর্যায়ে ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বই দেখা ছাড়া কিছুই বলতে পারবেন না বলে জানান। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ‘খেয়াল নেই’, ‘আমি নিশ্চিত নই’, ‘জানা নেই’, ‘বলতে পারব না’, ‘বই দেখে বলতে হবে’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। 

গত ৫ জুলাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের (এক সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মুনতাসীর মামুনকে গতকাল বুধবার (৪ জুলাই) জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। এ নিয়ে তিন দিনে তাঁকে প্রায় ১০ ঘণ্টা জেরা করা হলো। তিনি গত ১ জুলাই জবানবন্দি দেন।…মধ্যাহ্ন বিরতির পর জেরায় প্রায় সব প্রশ্নই ছিল শান্তি কমিটি নিয়ে। শান্তি কমিটি বিধিবদ্ধ সংস্থা ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, শান্তি কমিটি তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছিল। যেহেতু কর্তৃপক্ষের (সামরিক কর্তৃপক্ষ) সঙ্গে তাদের সব সময় যোগাযোগ ছিল, সে জন্য এটি বিধিবদ্ধ ছিল কি ছিল না, তা অপ্রাসঙ্গিক। কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সদস্যরা ভাতা পেতেন কি না—এর জবাবে তিনি বলেন, শান্তি কমিটির সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁরা সরকারের কাছে আবেদন করলে সহযোগিতা পেতেন। শান্তি কমিটির সংবাদ, বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতে সরকারি কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শান্তি কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা এটা বলতে পারবেন। সাক্ষী আরও বলেন, ‘শান্তি কমিটি সম্পর্কিত আমার সব বক্তব্য তথ্যভিত্তিক। এর বাইরে কোনো বক্তব্য নেই।’…কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির কোনো সদস্য কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, এমন তথ্য সাক্ষীর কাছে আছে কি না—আইনজীবীর এ প্রশ্নে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী বলেন, এ মুহূর্তে এমন তথ্য তাঁর কাছে নেই।”

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী শাহরিয়ার কবির। আসামিপক্ষ তাকে গত ৯ জুলাই পঞ্চম দিনের মতো জেরা করে। ১০ জুলাই প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শাহরিয়ার কবিরকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। মুজাহিদ এ সময় আসামির কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। শাহরিয়ার কবির একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি। একাত্তরের ২ আগস্ট অধ্যাদেশের মাধ্যমে কি রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল—জেরায় আইনজীবীর এ প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার কবির বলেন, তাঁর জানামতে, একাত্তরের মে মাসে জামায়াতের নেতা মওলানা এ কে এম ইউসুফ খুলনায় প্রথম রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। পরে পাকিস্তান সরকার এই বাহিনীকে আনসার বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করে অধ্যাদেশ জারি করে। রাজাকার বাহিনী গঠনের বিষয়টি প্রথম কখন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তাঁর জানা নেই। আশির দশকের মাঝামাঝি একাত্তরের ঘাতক দালালেরা কে কোথায় বইটি লেখার সময় মাঠপর্যায়ে কাজ করে এ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।
পরের কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, এ কে এম ইউসুফ একাত্তরে মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তিনি স্বাধীনতার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর (ইউসুফ) বিরুদ্ধে কি রাজাকার বাহিনী গঠনের অভিযোগ আনা হয়েছিল—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা জানা নেই। আইনজীবী বলেন, বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় থাকাকালে আদালতের নির্দেশে এ কে এম ইউসুফ মুক্তি পেয়েছিলেন। এ সময় সাক্ষী বলেন, এটা হতে পারে, তবে সুনির্দিষ্টভাবে তাঁর জানা নেই। রাজাকার বাহিনীর প্রথম পরিচালক কে ছিলেন—এর জবাবে তিনি বলেন, বই না দেখে বলতে পারবেন না।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Crimes against huminity

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s