মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে আল-গামদি ও টবি ক্যাডম্যানদের অপতৎপরতা

ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানকে জামায়াতীরা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে তাদের লিগ্যাল কনসালটেন্ট বলে দাবি করলেও মূলত তিনি আইনি পরামর্শের বদলে অন্য কাজে ব্যস্ত। একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের হাত থেকে জামায়াত নেতাদের বাঁচাতে তথা এ বিচার প্রক্রিয়া বানচাল করতে আন্তর্জাতিক লবিস্ট হিসেবে কাজ করছেন তিনি। একই কাজ করছেন স্টিভেন কে কিউসি নামের আরেক ব্যক্তি। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সূত্রে জানা যায়, স্টিভেন কে কিউসি এবং টবি ক্যাডম্যানের জন্য এবং জামায়াতের আইনী খরচ চালানোর জন্য লন্ডন থেকে প্রায় ৫ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহ করেছেন প্রবাসী জামায়াত নেতারা। সেই অর্থেই মূলত টবি ক্যাডম্যান এবং স্টিভেন কে কিউসি জামায়াতের আন্তর্জাতিক লবিস্ট হিসেবে কাজ করেন। তাদের মূল কাজ হোলো বিভিন্ন টিভি, পত্রিকা, টক শো, জার্নালে বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষে এবং বাংলাদেশের সরকারের ও আইনের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখা।
মধ্যপ্রাচ্যে এ কাজে নিয়োজিত আছেন সাবেক সৌদি কূটনীতিক ড. আলি আল-গামদি। এক সময় বাংলাদেশে সৌদি দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন তিনি। তখন বিদেশি অর্থে জামায়াতীদের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ইদানীং তিনি মাঝেমধ্যেই সৌদি গেজেট লিখছেন বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে। সবশেষ লেখাটি লিখেছেন ১৪ নভেম্বর। ওই লেখায় গামদি জানিয়েছেন, সম্প্রতি সৌদি আরবে গিয়ে টবি ক্যাডম্যান নাকি বলেছেন যে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনের ব্যাপক লংঘন হচ্ছে। এ বিচার বন্ধ করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিতে ক্যাডম্যান সৌদি আরবের প্রভাবশালীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
২০১১ সারের জুলাই মাসের মধ্যভাগে টবি ক্যাডম্যান বাংলাদেশের ভিসার জন্য একটি আবেদনপত্র দাখিল করেছিলেন লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে। ওই আবেদনপত্র দাখিলের আগে দুইবার টবি ক্যাডম্যান বাংলাদেশে ঘুরে যান জামায়াতীদের উদ্যোগে দুটি সেমিনারে অংশ নিতে। টবি ক্যাডম্যানের অপতৎপরতা সম্পর্কে জানার পরও তাকে তৃতীয়বারের মত ভিসা দেয় বাংলাদেশ সরকার। টবি ক্যাডম্যান লিখিত ভাবে জানান যে, তিনি বাংলাদেশে ঘুরতে যাবেন এবং সেই কারনে তিনি ভিজিট ভিসার জন্য আবেদন পেশ করেন। টবি ক্যাডম্যান এরপর ৫ আগস্ট এমিরেটস এর একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে পৌঁছান। টবিকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তার বাংলাদেশে আসার কারন জিজ্ঞেশ করেন। জবাবে টবি ক্যাডম্যান দর্পের সঙ্গে জানান যে, তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাঈদী ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী। তাদের আইনী ব্যাপারে তদারকি ও বাংলাদেশের কোর্টে আইনী লড়াই করতেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা টবিকে জানান, তিনি পেশাগত কারনে বাংলাদেশে এসেছেন এটি ভিসা আবেদনে বলেননি। এ কারনে তাকে আবার লন্ডন থেকে ওয়ার্ক-পারমিট ভিসা নিয়ে আসতে হবে।ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা টবিকে এও বলেন যে, তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করেছেন, এ ক্ষেত্রে তার এখতিয়ার রয়েছে টবিকে আইনের হাতে সোপর্দ করবার। এসব কথা শুনে টবি ক্যাডম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং সেসময় ইমিগ্রেশন পুলিশ টবিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি কক্ষে নেয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে টবি সাঈদী ও সাকার আইনজীবী বলে নিজেকে পরিচয় দিলে, আবারো ওয়ার্ক পারমিট ভিসার কথা বলেন বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তারা। তারা জরুরিভিত্তিতে যোগাযোগ করেন বার কাউন্সিলের সঙ্গে। বার কাউন্সিল ইমিগ্রেশন পুলিশকে জানায় যে টবি ক্যাডম্যান বাংলাদেশের বার কাউন্সিলের সদস্য নন এবং তিনি সাঈদী ও সাকার আইনজীবী এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। ওইসব তথ্য দেওয়া নেওয়ার এক পর্যায়ে খবরটি জানাজানি হযলে বাংলাদেশের ব্রিটিশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে ছুটে যান। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাংলাদেশে আসার জন্য টবি ক্যাডম্যানের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে জানালে ব্রিটিশ হাইকমিশনের মধ্যস্থতায় ওই যাত্রা টবি ক্যাডম্যানকে শুধু ডিপোর্ট করে দেয় ইমিগ্রেশন।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Crimes against huminity

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s