এই হলো প্রসিকিউশনের অবস্থা

জামায়াত নেতা মুহাম্মদ মারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউটর এ কে এম সাইফুল ইসলামের কার্যক্রমে স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ খবর দিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার ছিল প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপনের দ্বিতীয় দিন। সাইফুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় অসংলগ্নতা ধরা পরে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের চোখে। শুনানি শুরুর কিছুক্ষণ পরই ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান ওবায়দুল হাসান প্রসিকিউটরকে বলেন, ‘আপনার প্রস্তুতি নেই, যদিও আপনাকে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়েছে।’ বিচারক বলেন, ‘আপনি আজ কাজ করবেন, নাকি ঘুমাবেন, সেটা ঠিক করুন।’ তখন প্রসিকিউটর সাইফুল আমতা আমতা করে বলেন, ‘রাতে বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। কম্পিউটারে যে ডাটা তৈরি ছিল, তা ভুলে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়নি। আমার খাতাটাও নিচে রয়েছে।’ বলে তিনি পেছনে ফিরে সহযোগীদের তা নিয়ে আসতে ইশারা করেন। তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা কোনো যৌক্তিক অজুহাত হতে পারে না।’
প্রসিকিউটরের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা রায়ের আগে ক্যামেরার সামনে বলেন, সব অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন। টক শো-তে বলেন, বিচারক ফাঁসি দেবেই, তবে এটা ভুলে যাবেন না আপনাদের যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপনই প্রমাণ করবে আসামিরা ছাড়া পাবে, নাকি মুক্তি।’
কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দুজন সাক্ষীর বর্ণনা এক হলেও সময়ের ফারাক ছিল। বিষয়টি যুক্তি উপস্থাপনের সময় বেরিয়ে এলেও প্রসিকিউটর দাবি করেন, তিনি সন্দেহাতীতভাবে আসামির অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছেন। ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেন, ‘সাক্ষীর স্মৃতি বিভ্রাটের কারণে একটি ঘটনার সময় দুজন দুই রকম বলেছেন।’
ট্রাইব্যুনোলের তিন বিচারকের একজন শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘স্মৃতি বিভ্রাটের কারণে এমন হতে পারে না।’ ওই সময় আসামি কামারুজ্জামানকে কাঠগড়ায় বসে হাসতে দেখা যায়।
সকালের পর বিকালে দ্বিতীয় দফায় যুক্তি উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর সাইফুলের উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান সরাসরি বলেন, ‘আমরা আপনার যুক্তি উপস্থাপনে সন্তুষ্ট না। আপনি ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে চেষ্টা করবেন। কেস ভালোভাবে প্লেইস করবেন এটা আমরা চাই।’
প্রসিকিউটরদের মধ্যে সাইফুল ইসলামকে তুলনামূলকভাবে ভাল বলেই জানি। তারই এমন অবস্থা!
আগের দিন রবিবারও ট্রাইব্যুনালে উল্টাপাল্টা আচরণ করে পরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন একজন সিনিয়র প্রসিকিউটর। ওই দিন এক নম্বর ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা তালিকায় ১নম্বরে এবং গোলাম আযমের পক্ষে যুক্তির জন্য ২নম্বরে ছিল। প্রাইম খবর ডটকমসহ দুটি নিউজ পোর্টালের খবরে বলা হয়, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবী এ এইচ এম আহসানুল হক হেনার পরপরই প্রিজন সেলে গোলাম আযমের সঙ্গে তার আইনজীবীদের দেখা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানান গোলাম আযমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। ওই সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী এ এইচ এম আহসানুল হক হেনা ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘আজকে যেহেতু গোলাম আযম সাহেবের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে কার্যদিবসের পুরো সময় লাগবে তাই সোমবার পর্যন্ত আমাদের মামলা মুলতবির আবেদন জানাচ্ছি।’ তখন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সাকা চৌধুরী বলে সম্বোধন করে এ আবেদনের আপত্তি জানাতে গেলে ডিফেন্সের আইনজীবী এ এইচএম আবু হেনা ট্রাইব্যুনালের কাছে জোর আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘উনি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সাকা চৌধুরী বলে সম্বোধন করতে পারেন না। ওনাকে (জেয়াদ আল মালুম) যদি কোনো বিকৃত নামে ডাকা হয় তাহলে উনার কেমন লাগবে? তখন ট্রাইব্যুনালের বিচারপক বিষয়টি জানতে চেয়ে সতর্ক করতে গেলে মালুম উত্তেজিত ভঙ্গিতে বিচারপতিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমাকে দেখতে পারেন না কেন?’ ওই সময় তিনি (মালুম) ট্রাইব্যুনালকে আরো বলেন, ‘আমাকে কারণে-অকারণে ধমকান কেন?’ ওই সময় বিচারপতি বলেন, ‘আপনাকে আমি ধমকাবো কেন? আপনাকে ধমকিয়ে আমার কোনো লাভ আছে? এসব আপনি কী বলছেন মালুম সাহেব?’ এমন পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির প্রসিকিউটর মালুমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কোনো বিষয়ে আপনি মনঃক্ষুণ্ন হতে পারেন। কিন্তু ওপেন কোর্টে দাঁড়িয়ে এসব বলতে পারেন না।’ জবাবে প্রসিকিউটর আব্দুর রহমান হাওলাদার উদ্ভূত পরিস্স্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে জেয়াদ আল মালুমও এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক বলেন, ‘মিস্টার জেয়াদ আল মালুম বলুন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা সাহেবের আবেদন আপনার কথামতো রিজেক্ট করে তার মামলার কার্যক্রম কি বন্ধ রাখতে পারবো আমরা। আপনি এই কথার জবাব দেন।’ বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক আরো বলেন, ‘আপনি কি চান তাকে সারাদিন বসিয়ে রাখি। যদি বলেন, তাকে বসিয়ে রেখে কোনো লাভ হয় বলতে পারেন।’ মালুম এ সময় চুপ থাকেন।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Bangladesh, Crimes against huminity

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s