পাকিস্তানও বুঝি এগুতে চায়!

পাকিস্তানে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থীদের ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মবিশ্বাস বা গোষ্ঠীগত অনুভূতি ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। গত রবিবার এ নির্দেশনা জারি করে বলা হয়, ভোটারদের আকর্ষণে ধর্মীয় অনুভূতি ও সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করা যাবে না। পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জি নিউজ এ খবর জানিয়েছে। ইসিপির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের ধর্ম, শ্রেণী, বর্ণ বা লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। দেশটিতে আগামী ১১ মে সাধারণ নির্বাচন হবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের সংকীর্ণতা ও গোষ্ঠীগত আবেগ উদ্রেককারী এবং লিঙ্গ, সম্প্রদায় ও ভাষাভাষী গোষ্ঠীকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেওয়া থেকেও প্রার্থীকে বিরত থাকতে হবে। সচেষ্ট থাকতে হবে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার ও স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার প্রতিও।
ইসিপির ওই কর্মকর্তা বলেন, এ ছাড়া রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা মিথ্যা ও বিদ্বেষপূর্ণ তথ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত কোনো ধারণা বা তত্ত্বের প্রচার করতে পারবেন না। কোনো ধরনের জালিয়াতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও নেতাদের জন্য মানহানিকর কোনো অসত্য তথ্যকেও তাঁরা প্রশ্রয় দিতে পারবেন না। লাহোরভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক দ্য নেশন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার উল্লেখ করে বলেছে, ভোটারদের নৌ ও সড়কসহ যেকোনো পরিবহন পথে বিনা মূল্যে যাতায়াত-সুবিধা প্রদান কিংবা কেন্দ্র থেকে তাঁদের জোর করে বের করে দেওয়াও অপরাধ বলে গণ্য হবে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের ওই নির্দেশনা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ডন পত্রিকাটির সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার ব্যাপারে বেশ কিছু প্রশ্নও তোলা হয়। পত্রিকাটিতে বলা হয়, নির্দেশনার সব কটি দফা নির্বাচনী আচরণবিধিতে আগে থেকেই রয়েছে। কোনো নতুন দফা এতে সংযোজন করা হয়নি। এতে আরও বলা হয়, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি আগামী পার্লামেন্টেই উত্থাপন করা প্রয়োজন। ধর্ম ও রাজনীতি একত্রে চালানোর অনুমোদন দেওয়া না-দেওয়ার বিষয়টি কেবল সেখানেই নিষ্পত্তি হতে পারে।
পাকিস্তানে কয়েকটি রাজনৈতিক দল গণমাধ্যমে তাদের নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে ধর্মীয় বিষয়াদি ও বার্তা অন্তর্ভুক্ত করেছে। তা ছাড়া, গোষ্ঠীগত কয়েকটি রাজনৈতিক দলও এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি দেশটিতে জাতিগত হত্যাকাণ্ড ও ধর্মীয় সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের প্রতি নির্বাচনী প্রচারণায় ওই কড়াকড়ি আরোপ করে নির্দেশনা জারি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্ট এই দেশটিতে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার খুবই প্রকট। একই ধর্মের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে হানাহানি লেগেই থাকে সেখানে। বর্তমান বিশ্বে ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় পাকিস্তানের নাম উপরের দিকে। সেই দেশেই ধর্মকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার এ উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশে ব্লাসফেমি আইন চালু করার দাবি তুলছে একটি মহল।ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে সহিংসতা চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। আর খোদ প্রধানমন্ত্রী বলছেন, দেশ চলবে মদিনা সনদ অনুযায়ী। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের উদ‌্যোগ আমাদের লজ্জায় ফেলে না-কি?

Advertisements

Leave a comment

Filed under Politics

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s