রাজাকার প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ

Azad 10-5-71একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করেছে তদন্ত সংস্থা। সোমবার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার সদস্য মো. হেলালউদ্দিন। এর আগে দুপুরে ধানমণ্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য জানানো হয়।
ইউসুফের বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মোট ১৫টি ঘটনায় তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “মুক্তিযুদ্ধকালে রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে আমরা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৫টি অভিযোগ এনেছি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল এবং তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন করার জন্য আমরা অনুরোধ জানাব।”
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যার ছয়টি ঘটনায় সাত শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার সঙ্গে ইউসুফ জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আটজনকে হত্যা, ৩০০ বাড়ি ও ৪০০ দোকান লুটের পর অগ্নিসংযোগ এবং ২০০ হিন্দুকে ধর্মান্তর করার প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশে পাকিস্তানিদের গঠিত কথিত মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য ইউসুফ এক সময় জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে দলের নায়েবে আমির তিনি। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে হত্যা-লুণ্ঠনে সহায়তা দেওয়ার জন্য গঠিত সশস্ত্র বাহিনীর ‘রাজাকার’ নামটি তিনিই চালু করেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন।
ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ
একাত্তরে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির নির্দেশে এ কে এম ইউসুফ নিজে আহ্চেবায়কের দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে বৃহত্তর খুলনা জেলায় (খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট) শান্তি কমিটি গঠন করেন। পরে মহকুমা, থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে জামায়াত ও মুসলিম লীগের সদস্যরাসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে শান্তি কমিটি গঠন করেন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি খুলনা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯৬ জনকে নিয়ে তিনি খুলনার আনসার ক্যাম্পে সশস্ত্র রাজাকার বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। ইউসুফ ওই অঞ্চলের শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের নেতৃত্ব দেন।
জামায়াতের উচ্চপর্যায়ের নেতা, বৃহত্তর খুলনার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও মন্ত্রী হিসেবে তিনি পাকিস্তানি সেনাদের বিভিন্ন নির্দেশনা ও পরামর্শ দিতেন। তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশ, পরামর্শ ও প্ররোচনায় খুলনার বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধ সংঘটিত হয়।
এ কে এম ইউসুফের স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাটের শরণখোলা থানার রাজৈর গ্রামে। ১৯৫২ সালে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে লেখাপড়া শেষ করে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হন। ছাত্রজীবনে তিনি জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সদস্য ছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি জামায়াতে যোগ দেন। ১৯৫৭ সালে দলের খুলনা বিভাগীয় প্রধান হন। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হন ইউসুফ। ১৯৬৯ সালে জামায়াতের প্রাদেশিক যুগ্ম সচিব মনোনীত হন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পাকিস্তানিদের মদদে গঠিত মালেক মন্ত্রিসভায় রাজস্ব, পূর্ত ও সেচমন্ত্রী ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ শেষে দালাল আইনের অধীনে বিচারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন ইউসুফ। কিন্তু ১৯৭৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পান তিনি।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Bangladesh liberation war, Crimes against huminity

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s