ভেতরে আরো কতো লাশ কে জানে

Savarসাভারে ভবন ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছ। ফায়ার ব্রিগেড ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জীবিতদের উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চলবে শনিবার সকাল পর্যন্ত। এরপর শুরু হবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। তিনি আরো জানান, ধসে পড়া ওই ভবনের নিচে আটকা পড়া ২৪ জনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার কথা বলার পরপরই জীবিত উদ্ধার করা হয় আরেকজনকে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কত মানুষ আটকা রয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো কেউ জানাতে পারেননি। বিকেলে ফায়ার ব্রিগেডের মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান সাংবাদিকদের জানান, বুধবার সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘রানা প্লাজা’ যখন ধসে পড়ে, তখন ভেতরে পাঁচটি পোশাক কারখানায় তিন হাজারের বেশি মানুষ ছিলেন।
দেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম ভবন ধসের ঘটনার পর দুই দিনে দুই হাজারের মতো মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে।
নয় তলা ওই ভবন ধসে এখন তিন তলার উচ্চতা নিয়ে আছে। একটি তলার সঙ্গে আরেকটি তলা মিশে গেছে। এর মধ্যেই উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা। ফায়ার ব্রিগেড পরিচালক জাহিদুল জানান, তারা ভবনের নিচের দিকের বিভিন্ন তলায় পৌঁছে গেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এখনো জীবিত মানুষ পাচ্ছি। চতুর্থ তলা থেকে ২৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা (ভবন ধসের পর থেকে) পর্যন্ত জীবিতদের সন্ধান করবো আমরা।”
এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবনের ধ্বংসাস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন অনেক মানুষ, উদ্ধারকর্মীদের কাছে যারা ক্ষীণ কণ্ঠে জানাচ্ছেন উদ্ধারের আকুতি। উদ্ধার পেতে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া হাত-পা কেটে ফেলতেও অনুরোধ করছেন কেউ কেউ। এদেরই একজন নারী শ্রমিক পাখিকে (৩০) উদ্ধার করা হয়েছে দুই পা কেটে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা পাখি সাংবাদিকদের জানান, ভবন ধসে পড়ার সময় তিনি ছয় তলায় ছিলেন। একটি দেয়ালের নিচে তার দুই পা চাপা পড়ে। উদ্ধারকর্মীদের দেখতে পেয়ে প্রয়োজন হলে তার দুই পা কেটে হলেও উদ্ধারের জন্য আকুতি জানান তিনি। ওই ওয়ার্ডের একজন চিকিৎসক জানান, পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পাখির দুই পা কেটে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে অপারেশনের পর তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। পাখি জানান, তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গির। দুটি সন্তান নিয়ে তারা সাভারের সবুজবাগে থাকেন।
বৃহস্পতিবার ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে কণ্ঠ শুনতে পেরে হামাগুড়ি দিয়ে কাছাকাছি যান উদ্ধারকর্মী হারুনুর রশীদ। তিনি জানান, ভেতরে একটি বিমের নিচে কোমর পর্যন্ত চাপা পড়ে আছে সুরুজ নামের একজন।হারুনুর রশীদ জানান, পাশেই ধসে পড়া ছাদের নিচে চাপা পড়া আলতাফের দেহেও প্রাণ আছে। তাদের পেছনেও আরো কয়েকজনের কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতার দ্বিতীয় দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে অনেকের নিথর দেহের অংশবিশেষ বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। কংক্রিটের বড় টুকরো সরিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করতেও গলদঘর্ম হতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।
আগের দিন ভবনে ফাটল দেখা যাওয়ায় পোশাক শ্রমিকরা বুধবার সেখানে ঢুকতে চাননি। শ্রমিকদের জোর করে রানা প্লাজার বিভিন্ন কারখানায় ঢোকানো হয় বলে আহত শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Bangladesh

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s