সংলাপের উদ্যোগ ভেস্তে যাবে!

নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি মেনে নিতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সংলাপে বসতে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব উত্থাপনের দুদিন এবং তাতে সাড়া দিতে আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শনিবার মতিঝিলে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে বিরোধী দলের অবস্থান জানান তিনি। দাবি পূরণ না হলে টানা অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর ফলে সংলাপের উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে বলেই মনে হয়। খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ১৪ দলের নেতারা বলেছেন, আলটিমেটাম দিয়ে কখনো দাবি আদায় হবে না। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে খালেদা জিয়া দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘তাঁদের অযৌক্তিক আবদার মেনে নেওয়া হবে না।’ নাসিম বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে বলেন, ‘তিনি সংলাপ চান না, সংঘাত চান। গত চার বছরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এ ধরনের সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় কেন, ৪৮ মাসেও মানা হবে না।’
সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে, যাতে সরকার বিদায় নেবে অথবা ভয়ে পালিয়ে যাবে। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের সমাবেশে খালেদা জিয়া এই সময়সীমা বেঁধে দেন। সংলাপের প্রস্তাবকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে খালেদা জিয়া দাবি করেন, জনগণের দৃষ্টি ফেরাতে হঠাত্ করে প্রধানমন্ত্রী সংলাপের কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘আগে সরকারকে পরিষ্কার বলতে হবে যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সংবিধান সংশোধনের বিল আনতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার যেভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, সেভাবে এ বিষয়ে বলতে হবে। সেই সঙ্গে ‘নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা ঠিক করতে’ প্রধানমন্ত্রীকে নিজের বাসায় চায়ের আমন্ত্রণও জানান বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে খালেদা জিয়া দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে সংলাপ প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা জাতি প্রত্যাশা করেনি। তিনি এখনো সাংবিধানিকভাবে বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি যে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন, মনে হয় সেটা বাড়াতে হবে। কারণ, এর আগে বহু আলটিমেটামের মেয়াদ তিনি বাড়িয়েছেন।’ রাজনৈতিকভাবে খালেদার আলটিমেটাম প্রতিহত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন সুরঞ্জিত।
প্রধানমন্ত্রীকে খালেদা জিয়ার চায়ের দাওয়াতের বিষয়ে সুরঞ্জিত বলেন, ‘তিনি আমাদের আহ্বানে সাড়া দেননি। সুতরাং তাঁর দাওয়াত রক্ষা প্রধানমন্ত্রীর জন্য কঠিন হবে।’
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এই আলটিমেটাম খালেদা জিয়ার পতনকেই ত্বরান্বিত করবে। তাঁকে আলোচনায় আসতেই হবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে খালেদা জিয়া সাড়া না দিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি দেশে শান্তি চান না। তাঁর দুই ছেলেসহ দলের নেতাদের নামে যে মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু সাংবিধানিক বিরোধীদলীয় নেতা কখনো এ ধরনের আলটিমেটাম দিতে পারেন না।’ তিনি বলেন, ‘দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সব ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে ফিরে আসুন। সংঘাত দিয়ে কখনো দাবি আদায় হয় না।’

Advertisements

Leave a comment

Filed under Bangladesh, Politics

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s