About

আজাদুর রহমান চন্দন

আজাদুর রহমান চন্দন পেশায় সাংবাদিক। যদিও একাডেমিক দিক দিয়ে তিনি একজন কৃষিবিদ। বর্তমানে বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর যুগ্ম বার্তা সম্পাদক। এর আগে বার্তা বিভাগের শিফট ইন-চার্জ হিসেবে কাজ করেছেন জাতীয় দৈনিক সমকাল-এ। ছাত্রাবস্থায়ই সাংবাদিকতা শুরু ১৯৮৮ সালে সাপ্তাহিক একতায় খণ্ডকালীন সাব-এডিটর হিসেবে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ, পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণাধর্মী কাজে যুক্ত। তার প্রকাশিত গ্রন্থ ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা’ (জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ), ‘বিপন্ন পৃথিবী : জল জলবায়ু ও জীবন’ (জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ) এবং ‘গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ ১৯৭১’ (স্বরাজ প্রকাশনী)। এ ছাড়া ‌’কমরেড মণি সিংহ স্মারকগ্রন্থ’ ও মণি সিংহের ‘জীবন-সংগ্রাম’ (অখন্ড সংস্করণ) গ্রন্থ দুটি সম্পাদনা করেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষ তার লেখা বইয়ের ব্যাপক সহায়তা নিয়েছে। বেশ কয়েকটি মামলায় তার বই দালিলিক প্রমাণ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পেশও করে রাষ্ট্রপক্ষ। একাত্তরের আলবদরপ্রধান মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়েও এর উলে­খ আছে।

চন্দনের ‘যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা ১৯৭১’ গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। বইটির মুখবন্ধ লিখেছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও সম্পাদক আবেদ খান। মুখবন্ধে আবেদ খান লিখেছেন, ‘‘আজাদুর রহমান চন্দন যে এমন দুরূহ কাজ হাতে নিয়ে বসে আছেন তা আমি ভাবতেও পারিনি। স্বল্পবাক, শান্ত এবং নিরীহ এই চমৎকার মানুষটির ভেতরে যে এতো তীব্র যন্ত্রণা এবং ক্রোধ জমে আছে বুঝি কী করে! যখন আমার কাছে তিনি হাজির করলেন একটি গোটা পাণ্ডুলিপি, আমি তো অবাক! ‘যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা ১৯৭১’ শিরোনামের পাণ্ডুলিপিটি দেখে চেয়ে নিলাম ওটা। টানা দেড় রাত লেগেছে আমার খসড়াটি পড়ে শেষ করতে। তিনটি অধ্যায় আছে তাতে–এক. একাত্তরের গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ : অঢেল প্রমাণ, দুই. জামায়াতীদের অপরাধ চাপা দেওয়া যাবে না, এবং তিন. হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্ট : মগ্ন মৈনাকচূড়া। এ ছাড়া রয়েছে অনেক প্রামাণ্য দলিল এবং বেশ কিছু আলোকচিত্র যা এই গ্রন্থটিকে যৌক্তিকতা দিয়েছে।’’ আবেদ খান আরো লিখেছেন, ‘চন্দন মুক্তিযুদ্ধ করেননি এবং একাত্তরে তার মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার বয়সও হয়নি। আমরা যারা সেদিন একাত্তরে যুদ্ধে গিয়েছিলাম তাদের ভেতরে একটা সংশয় ছিলো, আমাদের অবর্তমানে কারা বহন করবে একাত্তরের পতাকা। কিন্তু এখন আশ্বস্ত হই এই ভেবে যে, চন্দনরাই নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা আর এ পতাকা মানায় তাদের হাতেই।’

বইটি সম্পর্কে সিনিয়র সাংবাদিক রওশন আরা জলির (বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী) একটি পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক জনকণ্ঠ-এ ২০০৮ সালেই, যার শিরোনাম ছিল ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রাণনা-উদ্রেকী গ্রন্থ’। Janakantha Book Rev

২০০৯ সালে চন্দনের ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা’ শিরোনামের বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার পর ‘ফিরে দেখুন একাত্তর, ঘুরে দাঁড়াক বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক পর্যালোচনায় সাংবাদিক বিপ্লব রহমান লিখেছিলেন, ‘‘নব্বইয়ের ছাত্রগণআন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে পড়েছিলাম নিউজপ্রিন্টের একটি পেপারব্যাক বই একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়? এই বইটি সে সময় সদ্য কৈশোর পেরিয়ে আসা তরুণমনে দোলা দিয়েছিলো দারুনভাবে। একাত্তরের ঘাতকদের চিনিয়ে দিতে এটিই সম্ভবত ছিলো একটি প্রথম সম্যক প্রয়াস। আর সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক আজাদুর রহমান চন্দনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণাগ্রন্থ ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা’। এটি হচ্ছে একই সঙ্গে ১৯৭১-এর একটি অসামান্য প্রামাণ্য দলিল।” [সূত্র- http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28973426%5D বইটির দ্বিতীয় বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার পর বিপ্লব রহমান আবার পর্যালোচনা লিখেছেন প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ-এ। Book review Biplob KK 15-7-11
এই বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশসহ অনেক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিতে এ বইটি আছে। বইটির ওপর একটি পর্যালোচনামূলক লেখা ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত হয় ২০১২ সালের ২১ জুলাই। ‘What We Need to Remember’ শিরোনামের ওই নিবন্ধে বলা হয়, ‘‘There have been many international and local news reports, letters, other documents and photographs put in the book Ekattorer Ghatak O Dalalera’ (Killers and Collaborators ’71) by the writer, Azadur Rahman Chandan. A journalist by profession, he translated the English and Urdu matters into Bangla for the benefit of Bangladeshi readers who will certainly find the book a brief yet precious document on our War of Liberation.’’ [সূত্র- http://www.thedailystar.net/news-detail-242917%5D

Book rev DS 2012_07_21

চন্দনের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে। তার মায়ের নাম রাবিয়া খাতুন এবং বাবার নাম আব্দুল খালেক তালুকদার। দুজনের কেউই জীবিত নেই। মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে এসএসসি এবং নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে এইচএসসি পাস করার পর কিছুদিন অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন ময়মনসিংহে আনন্দমোহন সরকারি কলেজে। পরে ভর্তি হন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত পটুয়াখালী কৃষি কলেজে, যেটি এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিএসসি এজি (অনার্স) পাস করেই যুক্ত হন সার্বক্ষণিক সাংবাদিকতায়। প্রথমে কিছুদিন একটি ইংরেজি সাপ্তাহিকে কাজ করেন। অল্পদিনের মধ্যেই যোগ দেন সাপ্তাহিক একতায়। ১৯৯৪ থেকে টানা চার বছর দায়িত্ব পালন করেছেন সাপ্তাহিক একতার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে। ১৯৯৮ সালে সাব-এডিটর হিসেবে যোগ দেন জাতীয় দৈনিক সংবাদ-এ বার্তা বিভাগে। সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত অবস্থায়ই তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটির বার্তা বিভাগের শিফট ইন-চার্জের দায়িত্বও পালন করেছেন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে। ২০০৩ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক জনকণ্ঠ-এ বার্তা বিভাগে। ২০০৫ সালের মে মাস থেকে টানা চার বছর তিনি কাজ করেন জাতীয় দৈনিক সমকাল-এ।
ছাত্রজীবনেই চন্দন যুক্ত হন প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে। নেত্রকোনা সরকারি কলেজে অধ্যয়নকালে কোনো ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও তিনি এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে অংশ নেন তখন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে। আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হন। পরে পটুয়াখালী কৃষি কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে ছাত্র অবস্থায়ই তাকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থীসদস্য করা হয়। ছয় মাসের মধ্যেই তিনি পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। এক পর্যায়ে তিনি পার্টির পটুয়াখালী সদর উপজেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। ছাত্র অবস্থায় তিনি গ্রামে ক্ষেতমজুর সমিতি গড়ে তোলার কাজেও অংশ নেন। ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত সিপিবির পঞ্চম কংগ্রেসের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে তিনি সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক নির্বাচিত হন।
স্কুলে পড়ার সময় থেকেই সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় আগ্রহী ছিলেন চন্দন। শ্যামপুর হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই তিনি ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। উচ্চ শিা গ্রহণকালে তিনি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীর সঙ্গে যুক্ত হন। সংগঠনের পটুয়াখালী কৃষি কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

AZADUR RAHMAN CHANDAN

E-mail : archandan64@gmail.com

Life-style                                     : Simple.

Approach & View                       : Progressive, secular.

Date of Birth                                :  November 27, 1964

Marital Status                             :  Married.

Profession                                   : Journalist

Working as a Joint News Editor in The Daily Kaler Kantho.

Worked as a Shift-in-charge in the news section of the Daily   Samakal from May 2005 to April 2008.

Also worked as a Sub-editor in the Daily Janakantha, the  Sangbad & as the Executive Editor in the Weekly Ekota.

Book Published    : 1. Biponno Prithivi (Endengered Earth), Jatiyo Sahitya Prakash, Februry 2011

2. Killers & Collaborators of Ekattor, Jatiyo Sahitya Prakash, 2009, 2nd edition 2011

3. War-crimes & Genocide 1971, Publisher- Swaraj Prakashoni, 2008

Book edited : 1. Comrade Moni Singh Smarok Grontho (Comrade Moni Singh Commemoriate Book), Jatiyo Sahitya Prakashoni, Februry 2005

Academic Qualification  :  BScAg (Hons) from Bangladesh Agricultural University

Year            : 1990

Institute    : Patuakhali Agricultural College

Present Address     :  Tejgaon, Dhaka – 1215

Permanent Address :  House # 189,  North Dawlatpur, Mohangonj, Netrakona

Mother           : Rabeya Khatun

Father            : Abdul Kaleque Talukder

One response to “About

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s